ইলিশা থেকে সরাসরি ঢাকার পথে ফেরি

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩৭ এএম

ভোলা-ঢাকা নৌপথে সরাসরি সরকারি ফেরি সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। এর অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রথমবারের মতো ভোলার ইলিশা ফেরিঘাট থেকে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে পরীক্ষামূলকভাবে যাত্রা শুরু করে ‘বেগম রোকেয়া’ নামের একটি ফেরি। ফেরিটিতে ১৩টি ট্রাক নিয়ে বিকেলে ইলিশা ঘাট ছাড়ে।

এতদিন ভোলার ইলিশা ফেরিঘাট থেকে ফেরি চলাচল করলেও এর গন্তব্য ছিল লক্ষ্মীপুর। এবারই প্রথম এই ঘাট থেকে সরাসরি ঢাকার উদ্দেশে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফেরির পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু হলো। ফলে দীর্ঘদিনের ভোলা-ঢাকা সরাসরি ফেরি সার্ভিস চালুর দাবি বাস্তবায়নের পথে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, পরীক্ষামূলক চলাচলের সময় ভোলা-ঢাকা নৌপথের নাব্য, দূরত্ব, যাতায়াতে প্রয়োজনীয় সময় এবং ঢাকায় কোন ঘাটে ফেরিটি ভেড়ানো সুবিধাজনক হবে এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হবে। সাত দিন পরীক্ষামূলক চলাচলের পর এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত ফেরি সার্ভিস চালু হলে সম্ভাব্য ভাড়াও নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট কমিটি।

বিআইডব্লিউটিসির ডিজিএম মুহাম্মদ তানভীর হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পরীক্ষামূলক এই যাত্রায় অংশ নিয়েছেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী মহাব্যবস্থাপক খান মো. জাফর খান, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গোলাম মাওলা, উপপরিচালক মাসুদুল হক ও ব্যবস্থাপক মো. আল-আমিন।

পরীক্ষামূলক ফেরিটির দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থাপক কাওসার আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভোলা-ঢাকা রুটে ফেরি সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বিআইডব্লিউটিসি নতুন ফেরি তৈরি করেছে। ঘাট পরিদর্শনসহ রুটের দূরত্ব ও সময় নির্ধারণের কাজও করা হয়েছে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইলিশা ঘাটে স্থানীয়দের মধ্যে এ উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এতদিন ইলিশা থেকে ফেরি লক্ষ্মীপুরে গেলেও সরাসরি ঢাকার পথে ফেরি চলাচল ছিল ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। পরীক্ষামূলক যাত্রার মধ্য দিয়ে সেই প্রত্যাশা পূরণের একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোলার কৃষিপণ্য, মাছ, ইলিশসহ বিভিন্ন পণ্য রাজধানীর বাজারে পাঠাতে সরাসরি ফেরি সার্ভিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে রাজধানী থেকে ভোলায় পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও পরিবহন ব্যবস্থা আরও সহজ ও নির্ভরযোগ্য হবে বলে আশা করছেন তারা।

ভোলা স্বার্থ রক্ষা উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক হাসিব রহমান বলেন, ভোলা-ঢাকা রুটে ফেরি চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। সরকারি উদ্যোগে পরীক্ষামূলক ফেরি চলাচল শুরু হওয়াকে তিনি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

এদিকে ভোলা-ঢাকা নৌপথে প্রায় তিন বছর আগে ব্যক্তি মালিকানায় যাত্রীবাহী ফেরি ‘কার্নিভাল ক্রুুজ’ চালু হয়। ভোলা স্বার্থ রক্ষা কমিটির নেতাদের অভিযোগ, ওই ফেরিতে বর্তমানে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে গ্যাসের ট্যাংকার বহন করা হচ্ছে। তাদের দাবি, প্রতিদিন সেখানে প্রায় ১২টি গ্যাসবাহী গাড়ি পারাপার করা হয়। তবে বিআইডব্লিউটিসির ‘বেগম রোকেয়া’ ফেরিতে একসঙ্গে কমপক্ষে ২৫টি গাড়ি পরিবহনের সুযোগ থাকবে।

সরকারি ফেরি পরীক্ষামূলকভাবে চালুর খবরে পরিবহন মালিক সমিতির নেতারাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশা, নিয়মিত ফেরি সার্ভিস চালু হলে ভোলা থেকে রাজধানীতে পণ্য পরিবহন আরও সহজ, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য হবে।

এর আগে দীর্ঘ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালে ভোলার ইলিশা-লক্ষ্মীপুর নৌপথে প্রথম ফেরি সার্ভিস চালু হয়। বর্তমানে ওই রুটে পাঁচটি ফেরি চলাচল করছে। সেই ইলিশা ঘাট থেকেই এবার পরীক্ষামূলকভাবে ফেরির নতুন গন্তব্য হয়েছে রাজধানী ঢাকা।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরীক্ষামূলক চলাচলে নৌপথের নাব্য, সময় ও ঘাট ব্যবস্থাপনা সন্তোষজনক হলে ভোলা-ঢাকা রুটে নিয়মিত সরকারি ফেরি সার্ভিস চালুর সম্ভাবনা আরও জোরালো হবে। এতে দ্বীপজেলা ভোলার সঙ্গে রাজধানীর পণ্য পরিবহনে নতুন গতি আসার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকা-েও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত