আগস্টে ভর্তি দ্বিগুণ মৃত্যু কম

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩৭ এএম

দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। চলতি মাসের শুরুতেই বাড়তে শুরু করে রোগীর সংখ্যা। মাসের তৃতীয় সপ্তাহে এসে গত বছরের সমান হয়েছে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা। তবে মাসের হিসাবে গত বছরের আগস্টের চেয়ে চলতি বছরের আগস্টে হাসপাতালে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যাটি দ্বিগুণ হলেও মৃত্যু হার তুলনামূলক কম। যদি গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল কম।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, এখন থেকে ডেঙ্গু রোগী প্রতিদিনই বাড়বে। এখনও পিক সিজন আসেনি। পিক সিজন সেপ্টেম্বর অক্টোবরে হতে পারে। তবে এখনই যে পরিমাণ আক্রান্ত হচ্ছে, তাতে সামনে ভয়াবহতা গতবারের তুলনায় বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পিক সিজনে প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা হাজারের বেশি থাকবে বলে আশঙ্কা করছেন এই কীটতত্ত্ববিদ।

সেজন্য সতর্ক করে তিনি বলেন, হটস্পট ম্যানেজমেন্ট করতে হবে। যেসব জায়গায় ডেঙ্গু ক্লাস্টার, সেগুলো চিহ্নিত করে সেখানে মশা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম চালাতে হবে। সেই সঙ্গে জনগণকে জানানো জরুরি যে, ডেঙ্গু রোগী যেন মশারীর বাইরে না আসেন। তাহলে তার থেকেও ছড়ানোর আশঙ্কা রয়ে যাবে। জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় ১ হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪, জুনে ২ হাজার ৯০৭, জুলাইয়ে ৯ হাজার ২০৬ এবং আগস্টের ২৭ দিনে ১৬ হাজার ৯৩৮ জন। অন্যদিকে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ভর্তি হয়েছিল ১ হাজার ১৬১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৪, মার্চে ৩৩৬, এপ্রিলে ৭০১, মে মাসে ১ হাজার ৭৭৩, জুনে ৫ হাজার ৯৫১, জুলাইয়ে ১০ হাজার ৬৮৪ এবং আগস্ট মাসে ২৭ দিনে ৮ হাজার ৬৪ জন।

২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ৪৩০ জন। ওই দিন মৃত্যু ছিল শূন্যের কোটায়। ২০২৬ সালের ঠিক একই দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৬৮ জন। কারও মৃত্যু হয়নি। গতবারের তুলনায় এবার ভর্তি বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। শুধু এই একদিনেই নয়; গত বছরের আগস্ট মাসের তুলনায় চলতি বছরের আগস্ট মাসে প্রায় দ্বিগুণ রোগী ভর্তি হয়েছে। তবে আক্রান্তের তুলনায় গতবারের চেয়ে এবার মৃত্যু কিছুটা কম। গত বছর ১ আগস্ট থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ভর্তি হয়েছিল ৮ হাজার ৯৬৪ জন। এ বছর ভর্তি হয় ১৬ হাজার ৯৩৮ জন। গত বছরের আগস্টের ২৭ দিনে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়। এবার মৃত্যু হয়েছে ৩৪ জনের। গত বছর আগস্টে ২৫৬ জন ভর্তি রোগীর একজনের মৃত্যু হয়। এবার ৪৯৮ জন ভর্তি রোগীর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে একজনের।

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ২৯ হাজার ৯৪৪ জন। তাদের মধ্যে মারা যায় ১১৪ জন। এবার ২৭ আগস্ট পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয় ৩২ হাজার ২৪৮ জন, যাদের মধ্যে মারা গেছেন ৮৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ বছর ঢাকার বাইরে বেশ কয়েকটি জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। এর মধ্যে খুলনা বিভাগে এবার নতুন করে ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে। এর আগে কখনো এ বিভাগে এত মানুষ আক্রান্ত হয়নি। খুলনা বিভাগের মধ্যে বাগেরহাটে এবার এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১০ জন। হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন, চিকিৎসক নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। গত বছর এই দিন পর্যন্ত জেলাটিতে ভর্তি হয়েছিল ১০৭ জন। এবার রোগী বেড়েছে প্রায় ৯ গুণের বেশি। খুলনা মেডিকেল ও খুলনার জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয় ২ হাজার ৪৩১ জন। গত বছর এই দিন পর্যন্ত ভর্তি হয়েছিল ৩৩০ জন। এবার সেই হিসাবে রোগী বেড়েছে প্রায় ৭ গুণেরও বেশি।

এ ছাড়া বরিশাল বিভাগের মধ্যে এবারে পিরোজপুরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। এখন পর্যন্ত পিরোজপুরে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৪২৬ জন। গত বছরে এই দিন পর্যন্ত ভর্তি হয়েছিল ৫৪২ জন। বরগুনায় গত বছর রোগী বেশি থাকলেও এবার জেলাটিতে রোগীর সংখ্যা কম। পিরোজপুরের পরে রোগী বেশি ঝালকাঠিতে। এবার এ জেলায় ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় ১ হাজার ২৬২ জন। গত বছর ভর্তি হয়েছিল ১৬১ জন। এ ছাড়া ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৪৭ জন। গত বছর ভর্তি হয়েছিল ২৮১ জন। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের বাইরে এই জেলায়গুলো এবার নতুন করে ডেঙ্গু আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত