১৪ বছর আগে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তির ওপর নজরদারি চলছে। গতকাল রবিবার ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর।
অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সাগর-রুনির হত্যা মামলার তদন্ত আমাদের তদন্ত সংস্থা করছে না। এটি তদন্ত করছে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন)। তবে আমরা একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে কোনো কোনো সময় ক্লু পেয়ে যাই। যেমন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছুটা ক্লু পেয়েছিলাম। সাগর-রুনির বিষয়েও আমরা একটি ক্লু পেয়েছি। নাম-পরিচয় এখন প্রকাশ করতে পারছি না।’ তবে এটুকু বলতে পারি, একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের একটি কানেকশন পাওয়া যাচ্ছে। আমরা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখছি। তার (ওই সাংস্কৃতিক ব্যক্তি) ওপর আমাদের নজরদারি রয়েছে। আরও তদন্তের পর যদি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে পিবিআইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করব।
ট্রাইব্যুনালে সাগর-রুনির ছেলে মেঘ : এদিকে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ ও রুনির ভাই নওশের আলী রোমান গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যান। তারা চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর জোহার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় নওশের রোমান সন্দেহভাজনদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং সাগর-রুনি হত্যাকা-ের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে একটি আবেদন দিতে চান। প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাংবাদিক সাগর- রুনি হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালের অধীনে বিচার চেয়ে আবেদন করতে চান তারা (মেঘ ও নওশের রোমান)। তারা আগামীকাল (আজ) প্রসিকিউশনে একটি আবেদন দেবেন। যদি এটি সংশ্লিষ্ট আইনে সমর্থন করে তাহলে আবেদনটি গ্রহণ করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।’
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরদিন ভোরে বাসা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলী রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।