ফরিদপুরে স্ত্রী হাসিনা বেগমকে হত্যার দায়ে স্বামী ফরহাদ মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামিমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি ফরহাদ মোল্লা (৩৮) আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে হাসিনা বেগম পারিবারিকভাবে নগরকান্দা উপজেলা বস্তা পট্টি গ্রামের ফরহাদ মোল্লার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এর কয়েক বছর পর তাদের ঘরে মেয়ের জন্ম হয়। এরপর থেকেই যৌতুকের জন্য হাসিনাকে প্রায়ই চাপ দিতেন ফরহাদ মোল্লা। একপর্যায়ে হাসিনার পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে দাবি করেন ফরহাদ মোল্লা। হাসিনার পরিবার যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় ২০২৩ সালের ৩১ মে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে।
এ ঘটনার ওই দিনই হাসিনা বেগমের বাবা ফরহাদ মোল্লাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নগরকান্দা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
পরে মামলাটি ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ছিল। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত ফরহাদ মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
রায় ঘোষণার পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, আদালতের ঘোষিত রায়ে তারা সন্তুষ্ট। এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক রায়ের ফলে ভবিষ্যতে সমাজে নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতন কমে আসবে বলে তিনি আশা করেন।