সা  ক্ষা  ৎ  কা  র

আমি মনেপ্রাণে চাই দেশটা যেন খুব সুন্দর থাকে

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৮ এএম

সাবিনা ইয়াসমিন

জীবন্ত কিংবদন্তি সাবিনা ইয়াসমিন। অসংখ্য কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন শ্রোতাদের। সব মাধ্যমে গান করলেও প্লে-ব্যাকে সাবিনা ইয়াসমিন এক বিস্ময়কর নাম। আজ গানের পাখির জন্মদিন। ১৯৫৪ সালের আজকের দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বিশেষ এই দিন উপলক্ষে কথা হয় তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তারেক আনন্দ

জীবন থেকে চলে গেল ৭২টি বছর। পেছনে ফিরে তাকালে কেমন অনুভূতি হয়?

আলাদা করে বিশেষ কিছু মনে হয় না। এই সুন্দর দীর্ঘ জীবনটা খুব ভালোভাবেই কেটেছে, আল্লাহর কাছে তার জন্য হাজার হাজার শুকরিয়া। যেভাবে দিনগুলো পার করেছি, পার করছি, যেন আগামী দিনগুলোতেও এভাবেই সুন্দর আর সুস্থ থাকতে পারি, এটাই চাওয়া।

একসময় শহীদ আলতাফ মাহমুদ, খান আতাউর রহমান, সত্য সাহা, আলাউদ্দিন আলী প্রমুখ বিখ্যাত সুরকারদের সঙ্গে কাজ করেছেন। এখন নতুন প্রজন্মের সুরকারদের সঙ্গে কাজ করতে কেমন লাগছে?

সময় ও যুগ তো প্রতিনিয়ত বদলায়, পরিবর্তনের এই ধারা খুবই স্বাভাবিক। এখন যারা নতুন কাজ করছেন, তারা নিজেদের স্টাইলে কাজ করছেন। তাদের কনসেপ্ট ও চিন্তাভাবনা একদম আলাদা এবং নিজেদের সাধ্যমতো সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া এই সৃজনশীলতা ভালোই লাগে। এখনকার নতুন সুরকারদের মধ্যেও বেশ সুর ও কাজ পাওয়ার সুযোগ হচ্ছে, যা আমাকে নতুনভাবে আনন্দ দেয়। যাদের সঙ্গেই কাজ করেছি, কাজগুলো সত্যি মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো।

সংগীতের কত গুণী মানুষ চলে গেছেন। তাদের স্মরণে কখনো কি নিজেকে বড্ড একা মনে হয়?

শুধু কখনো কেন, প্রতিটি মুহূর্তেই তাদের কথা মনে পড়ে। আমি প্রতিনিয়ত ভাবি, কী অবিশ্বাস্য সব মানুষের সঙ্গে আমি কাজ করেছি! তারা একেকজন কালজয়ী সুরের জাদুকর ছিলেন। আজ তারা কেউ নেই, ভাবলেই কেমন যেন লাগে। গান নিয়ে, সুন্দর সুর নিয়ে কথা বলার মতো সেই পুরনো আর কাউকেই পাই না। তবুও ইউটিউবের দৌলতে যখন সেই পুরনো গানগুলো শুনি, এমন অনেক গানও সামনে চলে আসে, যা হয়তো নিজের গাওয়ার কথাই ভুলে গিয়েছিলাম। তখন তাদের কথা আরও গভীরভাবে মনে পড়ে। আমার আজকের এই অবস্থানের পেছনে তাদের অবদান বলে শেষ করা যাবে না। তারা ভালোবাসা দিয়ে এত অমর সুর গাইতে দিয়েছেন বলেই আমি আজকের সাবিনা ইয়াসমিন।

মন যখন কিছুটা বিষণœ হয় বা অবসরে ঘরে সময় কীভাবে কাটে?

সত্যি বলতে, অহেতুক কোনো বিষণœতা আমাকে গ্রাস করতে পারে না। আমি সবসময় ইতিবাচক চিন্তা করতে ভালোবাসি। তবে চারপাশে কোনো খারাপ খবর শুনলে, দুঃসংবাদ পেলে মন তো স্বাভাবিকভাবেই খারাপ হয়। আর কাজের কথা বললে, ঘরের কাজের তো শেষ নেই। ঘর গোছানো, আলমারি গোছানো বা দরকারি টুকটাক কাজ করতেই সময় পার হয়ে যায়। পাশাপাশি বোনের বাসায় যাওয়া, নাতনি-নাতিদের সঙ্গে সময় কাটানো, এগুলো খুব উপভোগ করি। আর রেওয়াজ তো প্রতিদিনই থাকে; রেওয়াজ করতে করতেই অনেকটা সময় কেটে যায়।

জন্মদিনের স্মৃতি আর স্পেশাল কোনো ভালোবাসার উপহারের কথা জানতে চাই...

নির্দিষ্ট কোনো উপহারের চেয়ে মানুষের ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা পাওয়াটাই আমার কাছে আসল। প্রচুর মানুষ বার্তা পাঠান, ফোন করেন, অনেকের উত্তর সময়মতো দিতে পারি না বলে দুঃখও লাগে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, যেমন চ্যানেল আই বা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নিয়মিত শুভেচ্ছা আসে। নিউ ইয়র্ক থেকে এক ভাই ফোন করে আমার জন্য ইলিশ মাছ রান্না করে পাঠানোর উপহারের আবদার জানালেন! এগুলো ছোট ছোট পরম ভালোবাসার প্রাপ্তি। আর জন্মদিনটা বরাবরই বাসায় খুব সাধারণভাবে পালিত হয়। ছোট বোন, তার ছেলেমেয়ে, নাতনিদের নিয়েই ছোট্ট আড্ডার মধ্য দিয়ে দিনটা কাটে।

জীবনের এই পর্যায়ে এসে যদি একটি চাওয়ার কথা বলি, তবে কী চাইবেন?

আমি মনেপ্রাণে চাই আমাদের দেশটা যেন খুব সুন্দর থাকে, সুন্দরভাবে চলে। সমাজে যত সমস্যা আছে, যানজট, ছিনতাই বা নিরাপত্তাহীনতার কথা শুনি, সেগুলোর যেন স্থায়ী সমাধান হয়। দেশের প্রতিটি মানুষ যেন শান্তিতে ও সুখে থাকতে পারে। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমাদের চারপাশে থাকা প্রতিটি অসুস্থ মানুষ যেন দ্রুত সুস্থতা লাভ করেন। কারণ অসুস্থতার মতো কষ্টকর আর কিছুই হতে পারে না। দেশের সব অসুস্থ মানুষের সুস্থতা আর সবার মুখে হাসি এটাই আমার একমাত্র চাওয়া।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত