গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ব্যবসায়ী মো. আজিবর রহমানকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হলেও প্রায় এক মাসেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ঠাকুরপাড়া এলাকায় মৌচাক-জামালপুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে প্রায় এক ঘণ্টা সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে বিক্ষোভকারীরা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
নিহত আজিবর রহমান ঠাকুরপাড়া এলাকার মারফত আলীর ছেলে। এ ঘটনায় তার স্ত্রী নাসরিন আক্তার বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় মামলা করেন। মামলায় ঠাকুরপাড়া এলাকার শরিফ এবং তার দুই ছেলে সাগর হোসেন ও সুমনসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে আজিবর রহমানকে গুরুতর আহত করা হলেও ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মামলা হওয়ার পরও আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, আসামিরা এলাকায় অবস্থান করলেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আজিবর রহমানকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আসামিদের নামও মামলায় রয়েছে। তারপরও কাউকে গ্রেপ্তার না করায় তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ। দ্রুত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
নিহতের স্ত্রী নাসরিন আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামীকে তারা মেরে ফেলেছে। কিন্তু কেন তাকে হত্যা করা হলো, সেটিও জানতে পারলাম না। শুনেছি, আসামিরা এখনো এলাকাতেই অবস্থান করছে। তারপরও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। আমরা আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।’
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই রাতে উপজেলার ফটিকমার্কেট এলাকা থেকে অটোরিকশায় করে নিজ বাড়ি ঠাকুরপাড়ায় ফিরছিলেন আজিবর রহমান। পথে চলন্ত অটোরিকশায় তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় শরিফ, তার দুই ছেলে সাগর হোসেন ও সুমনসহ কয়েকজন ধারালো দেশীয় অস্ত্র ও লোহার পাইপ দিয়ে আজিবর রহমানকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৯ আগস্ট তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাসরিন আক্তার বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় মামলা দায়ের করেন।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, আসামিরা ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।