কর্মস্থলে চাঁদা দাবির প্রতিবাদ করায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে দপ্তরকক্ষে ডেকে নিয়ে মারধর ও রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং আহত প্রকৌশলীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী কল্যাণ ফাউন্ডেশন ও কারিগরি পেশাজীবীদের একটি সংগঠন।
শুক্রবার সকালে গাজীপুরের পশ্চিম বুরুলিয়ায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আলটিমেটাম দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের জাতীয়তাবাদী শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ-১৯০১)-এর কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমন উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ শাখায় চাঁদা দাবি করা হয়। ওই চাঁদা দেওয়ার প্রতিবাদ করায় গত ২ সেপ্টেম্বর কয়েকজন নেতাকর্মী দলবদ্ধ হয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী মিঠুর ওপর হামলা চালান।
সংগঠনটির অভিযোগ, প্রকৌশলী মিঠুকে দপ্তরকক্ষে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং রক্তাক্ত হন। হামলায় আবু বকর সিদ্দিক (অফিস সহায়ক), জাকির হোসেন (কার্য সহকারী) ও ইশতিয়াক আহমেদ (কার্য সহকারী) জড়িত বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
হামলার শিকার প্রকৌশলীর রক্তাক্ত ছবি ও ভিডিও ফুটেজ, সাধারণ ডায়েরির (জিডি) কপি এবং হাসপাতালে ভর্তির কাগজপত্র রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। একই সঙ্গে বাপাউবোর বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নানা ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সংগঠনের নেতারা।
ডিপ্লোমা প্রকৌশলী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি ইসহাক পিকু বলেন, ‘একজন সরকারি কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলা, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি বা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে পারেন না। প্রকৌশলীদের নিরাপত্তা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়; এটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশের মৌলিক অধিকার।’
তিনি বলেন, হামলার ঘটনায় ফৌজদারি মামলা করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে ১৪ দিনের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার এবং চাকরি থেকে বরখাস্তের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু এবং আহত প্রকৌশলীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।
তারা বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে শান্তিপূর্ণ ও আইনানুগভাবে বৃহত্তর কর্মসূচি পালন করা হবে।