ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেছেন, আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন কি না, কিংবা তিনি অংশ না নিলে তার পরিবর্তে কে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন, এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নয় ভারত সরকার।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে নতুন কোনো তথ্য নেই।
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাওয়ার জন্য তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল দেশটির সরকার। তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পরই ওই আমন্ত্রণ জানানো হয়। পরে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকসের আউটরিচ পর্বে অংশ নেওয়ার জন্যও তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
তবে দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলার সময় ভারতে অবস্থানরত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশ নিয়ে তার ‘নিরন্তর রাজনৈতিক প্রচারণা’ চালানোর বিষয়টি তারেক রহমানের ভারত সফরকে অনিশ্চিত করে তোলে। ফলে ব্রিকস সম্মেলনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে এসেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।
রণধীর জয়সোয়ালের শুক্রবারের বক্তব্য থেকেও স্পষ্ট হয়নি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্মেলনে অংশ না নিলে তার পরিবর্তে বাংলাদেশের অন্য কোনো প্রতিনিধি সেখানে যাবেন কি না।
গণঅভ্যুত্থানের ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্ট ক্লাবে (এফসিসি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন। ওই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি ‘দেশ ও সরকারবিরোধী প্রচারণা’ চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করে বাংলাদেশ সরকার। এ ঘটনায় ঢাকার পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দিতে ভারতের প্রতি প্রত্যর্পণের দাবিও নতুন করে জোরালো করা হয়। পাশাপাশি তাকে সংযত রাখার জন্যও ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
ব্রিকস সম্মেলনের আগে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত না যাওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে ওই ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ৫ আগস্টের পর সম্প্রতি নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্ট ক্লাবে আরেকটি আন্তর্জাতিক আলোচনা সভা আয়োজনের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
এর মধ্যেই সম্প্রতি শেখ হাসিনা ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে নতুন করে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তার এসব সাক্ষাৎকার নিয়েও শুক্রবারের ব্রিফিংয়ে ভারত সরকারের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়।
এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, সাক্ষাৎকারগুলোর সময়টি ‘বেশ ইন্টারেস্টিং’, এ বিষয়ে ভারত সরকারের কোনো বক্তব্য আছে কি না। জবাবে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য নেই।
মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে একই ধরনের একাধিক প্রশ্নের জবাবেও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলার নেই।
অনুকূল পরিবেশে তারেক রহমানের ভারত সফর: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে যা বললেন নাহিদ ইসলাম