গণভোটের রায় না মানলে ধানের শীষের ভোটও বৈধ নয়: মামুনুল হক

ইসলামপন্থীদের মধ্যে বিভেদ তৈরির মাধ্যমে ষড়যন্ত্র চলছে বলে দাবি করেছেন মামুনুল হক।

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৫ এএম

‘একটির মাধ্যমে দেশ গঠনে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি, অন্যটিতে জনগণ গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছে। তাহলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নয় কেন? যদি একটি অবৈধ হয়, তবে আরেকটি অর্থাৎ ধানের শীষের ভোটও বৈধ হতে পারে না।’

বগুড়ায় গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন কেন্দ্রীয় খেলাফত মজলিসের আমির শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বগুড়া মহানগরের খোকনপার্কে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বগুড়া জেলা শাখা এ সমাবেশের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক মুফতি মামুন রহমানী।

মামুনুল হক বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর দেশের ৩৩টি রাজনৈতিক দল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে ৮৩টি অধিবেশনে বসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। একই নির্বাচন কমিশনের অধীনে পরে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হয়—একটি সরকার গঠনের জন্য এবং অন্যটি গণভোটের জন্য। একই দিনে অনুষ্ঠিত ওই ভোটে একটির মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে, আর গণভোটে জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে রায় দিয়েছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় কেন বাস্তবায়ন করা হবে না।

‘৭২-এর রাজনৈতিক ব্যবস্থা’ বাতিলের আহ্বান জানিয়ে খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ১৯৪৭, ১৯৭৮ এবং ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবকে ভিত্তি করে নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এমন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারে।

গণভোটের রায় যারা মানে না, তারা মানুষের সঙ্গে গাদ্দারি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে পথ দেখানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাতে তিনি কোনো ভুল না করেন।

জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, জুলাই সনদের ওপর ভিত্তি করেই সরকার গঠন হয়েছে। অথচ এখন সেই জুলাই সনদকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। তার অভিযোগ, ক্ষমতায় আসার জন্য দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের তাগিদ থাকলেও ক্ষমতায় আসার পর সংবিধান সংস্কারে কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

দেশে নতুন বাংলাদেশকে ঘিরে ষড়যন্ত্র চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, নতুন বাংলাদেশে আলেম-ওলামা ও ইসলামপন্থীদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু ইসলামপন্থীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করে তাদের ঐক্য নষ্ট করার চেষ্টা চলছে।

মামুনুল হক বলেন, পরস্পরের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়িতে ব্যস্ত রাখার মাধ্যমে ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামপন্থীদের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সেই সম্ভাবনাকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গলাটিপে হত্যার চেষ্টা চলছে। এ কারণে খেলাফত মজলিসকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক আবদুল আহাদ, যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারফ হোসেন, জামায়াতে ইসলামী বগুড়া মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবদুল মালেক এবং এনসিপি বগুড়া জেলা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এমএসএ মাহমুদ। এ ছাড়া খেলাফত মজলিসের বগুড়া জেলা ও উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

এদিকে জুমার নামাজের পর থেকেই নাগরিক সমাবেশে যোগ দিতে বগুড়া শহীদ খোকনপার্কে খেলাফত মজলিসের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত