বাস্তুচ্যুত হয়ে বিদেশে অবস্থান করা নাগরিকদের ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ’ প্রত্যাবাসনের কথা জানিয়েছে মিয়ানমার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘যাচাই-বাছাই করা বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মিয়ানমার।’ তবে ‘রোহিঙ্গা’ নামে দেশটিতে কোনো জাতিগোষ্ঠীর অস্তিত্ব থাকার কথা অস্বীকার করেছে তারা। মন্ত্রণালয় আবারও বলেছে, তারা নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘুদের নিজেদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। মানবাধিকার কর্মীদের আশঙ্কা, এ কারণে দেশে ফেরা রোহিঙ্গারা আবারও বিপদে পড়তে পারে।
মালয়েশিয়া থেকে দেড় হাজার মানুষের আসন্ন প্রত্যাবাসন নিয়ে জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশের পর মিয়ানমার সরকার থেকে এই প্রতিশ্রুতির কথা জানানো হলো। গত জুলাই মাসে মালয়েশিয়া জানিয়েছিল, মিয়ানমার পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে। দুই দেশই জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে প্রথম ধাপে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরবে মিয়ানমারের প্রায় দেড় হাজার নাগরিক। তবে এর মধ্যে কতজন রোহিঙ্গা থাকবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
মিয়ানমার দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আলাদা কোনো ঐতিহ্য থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে আসা অভিবাসীদের বংশধর। এমনকি তারা ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করতেও রাজি নয়। গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও তাদের সেই পুরনো দাবি তুলে ধরেছে। তারা বলেছে, ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি দিয়ে এমন এক জাতিগত পরিচয়ের মিথ্যা দাবি করা হয়, যার অস্তিত্ব মিয়ানমারে কখনোই ছিল না। এ ছাড়া সম্প্রতি কয়েকটি দেশে ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস’ পালনেরও নিন্দা জানিয়েছে তারা।
২০১৭ সালে শুরু হওয়া সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে যায়। এর ভিত্তিতেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) একটি গণহত্যার মামলা চলছে। সীমান্ত পেরিয়ে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। তারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছে। তবে তাদের দেশে ফেরানোর আলোচনা খুব সামান্যই এগিয়েছে। এর বাইরে আরও ১ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা মালয়েশিয়ায় বাস করছে। সেখানে মিয়ানমারের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর বাস্তুচ্যুত নাগরিকরাও রয়েছে। মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল বলেছেন, দেশে ফিরলে ‘যদি নির্যাতনের শিকার হতে হয় বা জীবনের ঝুঁকি থাকে’, তবে মিয়ানমারের নাগরিকদের ফেরত পাঠাবে না তার দেশ।
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অনেক অভিবাসীকেই আটককেন্দ্রে (ডিটেনশন সেন্টার) আটকে রাখা হয়েছে। তাই দেশে ফেরার সিদ্ধান্তটি তারা স্বাধীনভাবে নিতে পারছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, যেই দেশে রোহিঙ্গাদের পরিচয়ই মুছে ফেলা হয়েছে, সেখানে তাদের ফেরত পাঠালে নতুন করে আবার নির্যাতনের পথ তৈরি হবে।