সরকারকে কড়া বার্তা দিতে চায় বিরোধী জোট

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৪ এএম

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধের দাবিতে সরকারকে কড়া বার্তা দিতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখে আজ শনিবার প্রথম লংমার্চ করবে বিরোধীদলীয় এ জোট। রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে জনসভার মাধ্যমে শেষ হবে লংমার্চ কর্মসূচি। এতে বক্তব্য  দেবেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ জোটের শীর্ষ নেতারা। কর্মসূচিতে নেতাদের বক্তব্য ছাড়াও গান ও নাটিকার মাধ্যমে মানুষের দুর্ভোগ ও দাবি তুলে ধরা হবে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সকাল ৭টায় মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে পথসভার মাধ্যমে শুরু হবে লংমার্চ। এরপর প্রথম পথসভা হবে নারায়ণঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজের কাছে ট্রাক স্ট্যান্ডে। পর্যায়ক্রমে কুমিল্লার পদুয়াবাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল, চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে পথসভা করবেন জোটের নেতারা। সহস্রাধিক গাড়ি নিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাবেন ১১ দল নেতারা।

তাৎক্ষণিক কিছু পথসভাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সময় স্বল্পতার কারণে অনেক জায়গায় পথসভার সিডিউল করা যায়নি। কোনো জায়গায় অনেক লোক জামায়েত হয়ে গেলে নেতারা গাড়িতে থেকেই বক্তব্য রাখবেন। এ বিষয় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়ভাবে প্রস্তুতি নেওয়া আছে।

পথসভা এবং সমাবেশগুলোতে ব্যাপক জনসমাগম হবে বলে প্রত্যাশা করছেন ১১ দলীয় নেতারা। এর মাধ্যমে তাদের দাবির যৌক্তিকতা এবং তাদের প্রতি জনসমর্থনের বিষয়টি তুলে ধরে সরকারকে একটি বার্তা দিতে চান তারা। এ প্রসঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য এবং মিডিয়া ও প্রচার উপকমিটির প্রধান সারোয়ার তুষার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থতির উন্নতি, জ্বালানি সমস্যার নিরসন, সারের সিন্ডিকেট ভাঙা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, গণভোট বাস্তবায়নসহ জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংসদের ভেতরে-বাইরে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। কিন্তু সরকার সবকিছু উপেক্ষা করে যাচ্ছে। গণভোটের জনরায় বাস্তবায়নে সরকার নানা ছলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছে। এই লংমার্চের মাধ্যমে সরকারকে জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার বার্তা দেওয়া হবে।’

লংমার্চের প্রতি নিয়ে গতকাল সভা করেছেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা। বৈঠকে লংমার্চের সবশেষ প্রস্তুতি, উদ্বোধনী সমাবেশসহ নানা বিষয় চূড়ান্ত হয়। লংমার্চ কর্মসূচিতে সরকারের ‘প্রশাসনিক সহযোগিতা’ চাওয়া হয় ১১ দলের পক্ষ থেকে। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকারের প্রতি আমাদের অনুরোধ বিরোধী দলের সর্ববৃহৎ শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি সফল করতে সকল প্রশাসনিক সহযোগিতা দিয়ে সরকার জনগণের আস্থায় থাকবে।’  তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যদি সরকারের কোনো দল বা কেউ লংমার্চে কোনো প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করে তাহলে তারা জনগণের আস্থা হারাচ্ছেন, আরও হারাবে এবং জনরোষের মুখোমুখি হতে হবে। আশাকরি এ রকম কোনো অপরিণামদর্শী পথে সরকার ও সরকারি দলের কেউ পা বাড়াবে না।’

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রমাণিত হোক বিরোধীদল ও সরকারি দলের পরমত সহিষ্ণুতা রয়েছে এবং রাজনৈতিক সহিংসতা যে ছিল, সেই নেতিবাচক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসেছি।’  তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত কোনো নাশকতার আশঙ্কা করছি না। নিরাপদ শান্তিপূর্ণ লংমার্চে জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির কোনো কারণ নেই।’

এর আগে পুলিশ মহাপরিদর্শকের সঙ্গে দেখা করে সার্বিক সহযোগিতা চান জোটের নেতারা। তারা প্রত্যাশা করছেন, সরকার অতীতের ন্যায় ফ্যাসিবাদী কায়দায় জনগণের দাবি আদায়ের আন্দোলন বাধাগ্রস্ত করবে না।

বৈঠকে মিয়া গোলাম পরওয়ার ছাড়াও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম, জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।

লংমার্চ ও পথসভা সফল করতে গতকাল শুক্রবারের মধ্যে সম্ভাব্য সব প্রস্তুতি শেষ করেছে জোটভুক্ত দলগুলো। ১১ দলের শরিক দলগুলো মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রস্তুতি সভা করেছে। লংমার্চ কর্মসুচিতে যেসব পথসভা হবে সেগুলো আয়োজন করছে জোটে স্থানীয় শাখাগুলো। এরই মধ্যে এসব জায়গায় কেন্দ্রীয় নেতারা সফর করেছেন। নিরাপত্তা ও জনসমাগম নিয়ে তৃণমূলের নেতাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়েছেন তারা। কেন্দ্রের নির্দেশনাও পৌঁছে দিয়েছেন।

লংমার্চের সমর্থনে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মালিবাগসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী। এর আগে সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ করেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রায় ৩০০ গাড়ি নিয়ে অংশ নেওয়ার কথা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুল জব্বার।

উল্লেখ্য, গত ৬ আগস্ট ঢাকার মুক্তাঙ্গনে জোটের এক অবস্থান কর্মসূচি থেকে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা থেকে চারটি বিভাগীয় শহরে ‘লংমার্চ’ ও মহাসমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেন জোটের শীর্ষ নেতা, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে (রেলপথে) লংমার্চ এবং ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার অনুষ্ঠিত হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত