মেট্রোরেল নতুন প্রকল্প উঠছে একনেকে

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৮ এএম

রাজধানীর পশ্চিম থেকে পূর্বাঞ্চলকে যুক্ত করতে নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন মেট্রোরেল। গাবতলী থেকে আফতাবনগর হয়ে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উঠছে ‘এমআরটি লাইন-৫ (সাউদার্ন রুট)’ প্রকল্পটি। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। এর মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও কোরিয়া সরকারের ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) থেকে ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হবে। বাকি ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা দেবে সরকার।

ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, মেট্রোরেল লাইন-৫ সাউদার্ন রুট প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর গাবতলী, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজগেট, আসাদগেট, রাসেল স্কয়ার, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাবনগর, আফতাবনগর সেন্ট্রার, আফতাবনগর পূর্ব, নাসিরাবাদ হয়ে দাশেরকান্দি ১৭ দশমিক ৪ কিলোমিটার তৈরি করা হবে। এটি গাবতলী থেকে আফতাবনগর সেন্ট্রার পর্যন্ত পাতাল এবং বাকি অংশে উড়াল রেলপথ হবে। উড়াল ও পাতাল সমন্বয়ে নির্মিতব্য এমআরটি লাইন-৫ (সাউদার্ন রুট) চালু হলে ঢাকা মহানগরী ও আশপাশের এলাকার যানজট কমাতে এবং পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি হবে রাজধানীর দ্বিতীয় পূর্ব-পশ্চিম সংযোগকারী মেট্রোরেল।

প্রকল্পের আওতায় গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২ কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ১ কিলোমিটার হবে পাতালপথ এবং ৪ দশমিক ১ কিলোমিটার উড়ালপথ। এ রুটে কল্যাণপুর, শ্যামলী, আসাদ গেট, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও ও আফতাবনগরসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো যুক্ত হবে। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত।

জানা গেছে, রাজধানীর যানজট কমানোর পাশাপাশি নিরাপদ, দ্রুত ও সময় সাশ্রয়ী গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রকল্পটি নেওয়া হচ্ছে। এমআরটি-৫ দক্ষিণ রুটে প্রতিদিন ৯ লাখ ২৪ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। প্রতিটি ট্রেনে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩১২ জন যাত্রী বহনের সক্ষমতা থাকবে। ট্রেনগুলো উড়ালপথে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার এবং পাতালপথে ৯০ কিলোমিটার গতিতে চলবে। যাত্রীদের আর্থিক সামর্থ্য ও মেট্রোরেল পরিচালনার ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভাড়া নির্ধারণ করা হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, মেট্রোরেলটি চালু হলে বছরে ২১ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে। সড়কে যানবাহন চলাচল কমবে ১ হাজার ৪৯টি। পাশাপাশি জীবাশ্ম জ¦ালানির ব্যবহার কমিয়ে বছরে ২ লাখ ৮ হাজার টন কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে কয়েকটি প্যাকেজের দরপত্র প্রক্রিয়াও এগিয়েছে। সিপি-১ থেকে সিপি-৪-এর চূড়ান্ত দরপত্রের নথি প্রস্তুত হয়েছে এবং এডিবির সম্মতিও পাওয়া গেছে। সিপি-৬ ও সিপি-৭-এর নথি পর্যালোচনা চলছে। এ ছাড়া সিপি-৮ ও সিপি-৯-এর দরপত্রের নথিও প্রস্তুত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত