ই-পাসপোর্টের জটিলতা, সৌদি আরবে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অপহরণ ও নির্যাতন, দালালচক্রের প্রতারণা, মেডিকেল পরীক্ষায় অনিয়ম এবং বিদেশ যেতে অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়সহ প্রবাসীদের নানা সমস্যা সমাধানে ১০ দফা দাবি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, দূতাবাস থেকে সরাসরি আইনি সহায়তা এবং অসুস্থ ও মৃত প্রবাসীদের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে দেওয়া মনোযোগ আকর্ষণ নোটিসে এ দাবি জানান সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। নোটিসটির শিরোনাম ছিল ‘সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের সমস্যা সমাধান প্রসঙ্গে’। জবাবে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানান, সরকার প্রবাসীদের শুধু কর্মসংস্থানের বিষয় নয়, তাদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করাকেও অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিভিন্ন দেশের চাহিদা অনুযায়ী জনশক্তি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য প্রকৃত অর্থেই প্রবাসীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছেন। এসব বিষয় তুলে ধরতে তাকে স্টাডি ও গবেষণা করতে হয়েছে। প্রবাসীদের সমস্যাগুলো অস্বীকার করার সুযোগ নেই। প্রবাসীদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি তাদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করা এই বিষয়টি আমাদের একটি বড় অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে প্রবাসীদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সে অনুযায়ী কর্মসংস্থানের পাশাপাশি প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
এর আগে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিসে সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অথচ বিদেশে গিয়ে নানা হয়রানি ও জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন তারা। ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে এনআইডি বা জন্মনিবন্ধনের তথ্যের সামান্য অসঙ্গতির কারণে অনেকের পাসপোর্ট আটকে যাচ্ছে। এতে তাদের ইকামা নবায়ন, ব্যাংকিং সেবাসহ প্রয়োজনীয় কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি দূতাবাসে বিশেষ ই-পাসপোর্ট সেল গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে আগের মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের তথ্যের ধারাবাহিকতা রেখে পাসপোর্ট নবায়নের সুবিধার প্রস্তাব করা হয়।
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনাও নোটিসে তুলে ধরা হয়। বিদেশগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষায় অনিয়ম নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে ‘ফিট-আনফিট’ বাণিজ্য বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। বিদেশ যেতে প্রবাসীদের অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে উল্লেখ করে নোটিসে এ ব্যয় কমানোর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়।
দুর্নীতি ঠেকাতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে পরিবীক্ষণ সেল গঠনের দাবি : দুর্নীতি, অনিয়ম, অপচয় ও ক্ষমতার অপব্যবহার ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে এসব অনিয়ম প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত ও প্রতিরোধ করতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে স্থায়ী পরিবীক্ষণ সেল গঠনের দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলী। তার মতে, নিয়মিত পরিবীক্ষণ, কর্মসম্পাদনের মূল্যায়ন ও ঝুঁকি নিরূপণের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় ঠেকানো এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব। গতকাল জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে দেওয়া মনোযোগ আকর্ষণ নোটিসে তিনি এ দাবি জানান। নোটিসের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকারি কার্যক্রম আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের পরিবীক্ষণ টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব টিম দৈবচয়নের ভিত্তিতে বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করে প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে।
সতর্ক না হলে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে ডেঙ্গু : চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এ এম এ মুহিত। তিনি বলেন, এখনই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার না করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। গতকাল সংসদ ভবনের ট্যানেলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ সতর্কবার্তা দেন তিনি। তিনি বলেন, চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিগত তিন-চার বছরের তথ্য-উপাত্ত ও এপিডেমিওলজিক্যাল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বৃষ্টির ধরন, উষ্ণ তাপমাত্রা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে সাধারণত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। তাই অক্টোবরের আগেই সবাইকে সতর্ক হতে হবে। মশক নিধন কার্যক্রম প্রসঙ্গে এ এম এ মুহিত জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনগুলোর সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুই মাস ধরে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।