তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন অফিসে দুদকের অভিযান

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৩ এএম

আবাসিক শ্রেণির উচ্চমূল্যের জমিকে ‘নাল জমি’ দেখিয়ে এবং দলিলে জমির প্রকৃত মূল্য কম উল্লেখ করে কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রাজধানীর তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে অভিযান চালিয়ে এমন তথ্য পেয়েছে সংস্থাটির এনফোর্সমেন্ট বিভাগ। গতকাল রবিবার দুদকের সহকারী পরিচালক আল আমিনের নেতৃত্বে একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বাড্ডা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রমের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দলিল, রেজিস্ট্রেশন নথি ও অন্যান্য রেকর্ডপত্র যাচাই করা হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের সহকারী পরিচালক আল আমিন বলেন, চুক্তি বা বায়না দলিলে কোনো কোনো জমির মূল্য ৩ কোটি টাকার বেশি উল্লেখ করা হলেও চূড়ান্ত রেজিস্ট্রেশনের সময় তা কমিয়ে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেখানোর তথ্য পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে ভিটে বা আবাসিক জমিকে নাল জমি হিসেবে শ্রেণি পরিবর্তন করে রেজিস্ট্রি দেখানোর ঘটনাও পাওয়া গেছে। এতে বিপুল পরিমাণ সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, বায়না দলিল ও চূড়ান্ত রেজিস্ট্রেশন দলিল যাচাই করে জমির মূল্যের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট দলিল ও নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো আরও যাচাই-বাছাই করে কমিশনে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

দুদকের কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, সাধারণ পোশাকে থাকা ব্যক্তিরা গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি করছেন এমন চিত্রও অভিযানে পাওয়া গেছে।

অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট জমির দলিল, রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত নথি ও অন্যান্য রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নথি বিশ্লেষণ করে জমির শ্রেণি পরিবর্তন, মূল্য কম দেখানো এবং রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০টি দলিল রেজিস্ট্রি হয়। দলিল রেজিস্ট্রির এই কার্যক্রমকে ঘিরে দালালচক্র ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীর মাধ্যমে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া ভুয়া নামজারি ও অন্যান্য জাল কাগজপত্র তৈরি করে জমি রেজিস্ট্রি করার অভিযোগও যাচাই করছে দুদক। অভিযানে সংগ্রহ করা নথি ও তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করা হবে। অভিযোগের সত্যতা ও অনিয়মের ধরন নিশ্চিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ঢাকা জেলার জেলা রেজিস্ট্রার শফিকুল ইসলাম বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত