বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

লভ্যাংশের বদলে মোট আয়ে ভাগ-বাটোয়ারা: অনিয়ম ধরতে তদন্ত কমিটি

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাবেক পিজি হাসপাতাল) পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে অর্জিত লভ্যাংশের বদলে মোট আয়ের ওপর অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে নেওয়া এই বিপুল অর্থ আদায় এবং সার্বিক অডিট আপত্তি খতিয়ে দেখতে একটি সাব-কমিটি গঠন করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

গঠিত সাব-কমিটিকে সরেজমিনে অনিয়ম তদন্ত করে এক সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির (পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি) প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান কমিটির সভাপতি ও বিরোধীদলীয় উপনেতা ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

আর্থিক অনিয়মের ধরন তুলে ধরে ড. তাহের বলেন, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের নিয়ম হলো—অর্জিত লভ্যাংশের ৩০ শতাংশ বিশেষজ্ঞরা পাবেন। কিন্তু তা না করে তারা মোট আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ অর্থ তুলে নিয়েছেন।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘উদাহরণস্বরূপ, ১০০ টাকা আয় এবং ৯০ টাকা ব্যয় হলে অবশিষ্ট ১০ টাকার (লাভ) ওপর লভ্যাংশ হিসাব করার কথা। কিন্তু তারা পুরো ১০০ টাকার ওপরই লভ্যাংশ নিয়েছেন। এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বাড়তি তুলে নেওয়া হয়েছে যা স্পষ্টত আইন লঙ্ঘন।’

লুটপাট হওয়া এই টাকা যেকোনো মূল্যে আদায় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে কমিটির সভাপতি বলেন, প্রতি মাসে এই অর্থ আদায়ের অগ্রগতির প্রতিবেদন কমিটিতে জমা দিতে বলা হয়েছে।

পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটিকে সাংবিধানিকভাবে ‘এক নম্বর কমিটি’ হিসেবে উল্লেখ করে সভাপতি জানান, কমিটির মূল কাজ হলো সরকারের বর্তমান ও অতীতের সমস্ত ব্যয় পর্যালোচনা করা এবং অডিট আপত্তির বিষয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া। মঙ্গলবারের বৈঠকটি মূলত পরিচিতিমূলক সভা ছিল। তবুও কার্যকর ফলাফলের জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি অডিট আপত্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু আপত্তি নিষ্পত্তি হলেও বাকিগুলোর বিষয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কমিটির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রসঙ্গে ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, বহু পুরোনো অডিট নিয়ে কাজ না করে নিকট অতীত অর্থাৎ২০২৪–২৫ সালের অডিটগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যাতে বর্তমানে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ওপর জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়। 

তিনি আরও জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বা অন্যান্য সরকারের আমলের অডিট আপত্তিগুলো পর্যায়ক্রমে সামনে আনা হবে। যেসব জায়গায় বড় ধরনের দুর্নীতি হয়েছে সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জনগণের কাছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এখন থেকে সংসদীয় এই কমিটির প্রতিটি বৈঠকের সিদ্ধান্ত প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলেও জানান ড. তাহের।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত