চট্টগ্রামের আনোয়ারা

কেইপিজেডে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বন্য হাতি, উত্ত্যক্ত করছে পর্যটকরা

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০১ পিএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলায় অবস্থিত কোরিয়ান ইপিজেডে পাহাড় থেকে নেমে আসা দুই বন্য হাতির অবাধ বিচরণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। হাতি দেখতে আসা পর্যটকদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে বেড়েছে নিরাপত্তা ঝুঁকিও।  

হাতির কাছে গিয়ে শোর-চিৎকার, ঢিল ছোড়া ও ফ্লাশ জ্বালিয়ে ছবি-ভিডিও করার অভিযোগ উঠেছে পর্যটকদের বিরুদ্ধে। গত ৮ বছর ধরে বন্য হাতির তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ওই এলাকার বাসিন্দারা। দিনের বেলায় পাহাড়ে অবস্থান করলেও সন্ধ্যারপরই নেমে আসে লোকালয়ে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে দুটি বন্য হাতি কেইপিজেডের বিভিন্ন এলাকায় দাপিয়ে বেড়াতে দেখা যায়। এতে একদিকে যেমন স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে ঘুরতে আসা একশ্রেণীর পর্যটকের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকদিন ধরে পাহাড় থেকে নেমে আসা দুই বন্য হাতি কেইপিজেডের বিভিন্ন এলাকা ও দর্শনীয় স্থানে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। হাতি দেখার জন্য প্রতিদিনই উৎসুক দর্শনার্থীদের ভীড় জমে যায় কেইপিজেডের সড়কে। 

অভিযোগ রয়েছে, নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করে অনেক পর্যটক হাতির খুব কাছে চলে যাচ্ছেন। কেউ মামা বলে চিৎকার করছেন, কেউ ঢিল ছুড়ছেন, আবার কেউ ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মানুষের এমন আচরণের কারণে হাতি দুটি ক্রমশ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। এতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

চট্টগ্রামের বাঁশখালী বন বিভাগের বনকর্মী মোহাম্মদ ফোরকান বলেন, বন্যপ্রাণীকে বিরক্ত করা বা কাছে গিয়ে উত্ত্যক্ত করা মারাত্মক অপরাধ ও ঝুঁকিপূর্ণ। বিরক্ত করলে শান্ত হাতি হঠাৎ হিংস্র হয়ে উঠতে পারে। পর্যটকদের নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান এবং কোনোভাবেই হাতিকে উত্ত্যক্ত না করার অনুরোধ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, হাতি ও মানুষের সুরক্ষায় সার্বক্ষণিক নজরদারি করতে ইআরটি সদস্যদেরও কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক যুগ আগে থেকে বন্য হাতির পাল কেইপিজেডের পাহাড়ে অবস্থান নেয়। সেই সময় কয়েক দিন ঘুরেফিরে চলে গেলেও ২০১৮ সাল থেকে হাতিগুলো দেয়াঙ পাহাড়ের কেইপিজেডে স্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করে। হাতির পালটি আনোয়ারার বটতলী হাজীগাঁও ও কর্ণফুলীর কেইপিজেডের দেয়াঙ পাহাড়, হ্রদ ও বন ঘেরা জায়গায় বিচরণ করে। হাতির তাণ্ডবে ফসলের ক্ষতি ও মানুষের প্রাণহানি ঘটছে বিভিন্ন সময়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত