বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে সামঞ্জস্য আনা হবে : ববি হাজ্জাজ

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫১ পিএম

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যে মাধ্যমেই পড়াশোনা করুক না কেন, তাদের মৌলিক জ্ঞান, দক্ষতা ও শেখার প্রক্রিয়ায় একটি অভিন্ন ন্যূনতম মানদণ্ড নিশ্চিত করা জরুরি।

এ লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করে কারিকুলাম, অবকাঠামো, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির ব্যবহারে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় রেডিসন হোটেলে অক্সফোর্ড একিউএ ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস আয়োজিত স্কুল লিডারস কনফারেন্স ২০২৬ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেবল বিশ্বের সেরা শিক্ষাচর্চা অনুসরণ করাই সরকারের একমাত্র লক্ষ্য নয়; বরং একদিন বাংলাদেশ থেকেই বিশ্বের অন্যান্য দেশ যেন সেরা শিক্ষাচর্চা অনুসরণ করে, সেটিই আমাদের স্বপ্ন। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় সময়, অর্থ ও কঠোর পরিশ্রমে সরকার প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী ইংরেজি মাধ্যম, বাংলা মাধ্যম কিংবা অন্য কোনো ধারায় পড়াশোনা করুক— তার মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতার ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন মানদণ্ড থাকা প্রয়োজন। ভালো ও তুলনামূলক কম ভালো প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য থাকবে, তবে কারিকুলাম ও শিক্ষার মৌলিক মানে বড় ধরনের বৈষম্য থাকা উচিত নয়।

প্রাথমিক শিক্ষার মৌলিক বিষয়গুলোতে দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, বিদ্যালয়ের সময় ও কার্যকর লার্নিং আওয়ার, শ্রেণিকক্ষের আয়তন অনুযায়ী শিক্ষার্থীর সংখ্যা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং প্রশিক্ষিত শিক্ষক, এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণ করা জরুরি। কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়া শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষের দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়।

প্রযুক্তি ও আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের প্রাথমিক শিক্ষায় অ্যাক্টিভিটি-বেজড লার্নিং ও খেলাধুলার মাধ্যমে শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়গুলোর বিদ্যমান অভিজ্ঞতা ও লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (LMS) কার্যকর ব্যবহার থেকেও সরকার শিক্ষা নিতে চায়।

প্রতিমন্ত্রী আরও  বলেন, নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের সময় আমরা চাই না কেউ বলুক, তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। আপনাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত নিয়েই আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই। কারিকুলাম, অবকাঠামো, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি— এই চার ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একটি সমতাভিত্তিক অবস্থানে আনার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। 

অক্সফোর্ড একিউএ’র বাংলাদেশ ও নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর শাহীন রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন। অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ হাইকমিশন ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং ঢাকার বিভিন্ন ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত