এলসি ছাড়াই আমদানির সুযোগ মানতে হবে বিধিবিধান

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৮ এএম

বাণিজ্য খাতের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঋণপত্র বা এলসি ছাড়াই পণ্য আমদানির সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের আমদানিকারকরা কোনো মূল্যসীমা ছাড়াই শুধু ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির ভিত্তিতে পণ্য আমদানি করতে পারবেন। একই সঙ্গে আমদানি মূল্য পরিশোধে ‘ওপেন অ্যাকাউন্ট’ বা উন্মুক্ত হিসাব পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগও রাখা হয়েছে।

আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯ বাস্তবায়নে গতকাল রবিবার এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-১। এর আগে গত ২৪ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নতুন আমদানি নীতি আদেশ জারি করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে আমদানিযোগ্য সব ধরনের পণ্য কোনো মূল্যসীমা ছাড়াই চুক্তির ভিত্তিতে আমদানি করা যাবে। এ ক্ষেত্রে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির ভিত্তিতে লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে। পাশাপাশি আমদানি মূল্য পরিশোধে উন্মুক্ত হিসাব পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ থাকছে। তবে এলসি ছাড়া পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা আইন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে। আমদানি লেনদেন নিষ্পত্তির সময় অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে আমদানি নীতি আদেশের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ব্যবস্থায় আমদানিকারকদের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনা আরও সহজ হবে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত বিদেশি সরবরাহকারীদের সঙ্গে ব্যবসা করে, তারা এলসি খোলার আনুষ্ঠানিকতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যয় এড়িয়ে চুক্তির ভিত্তিতে পণ্য সংগ্রহ এবং মূল্য পরিশোধ করতে পারবে। এতে ব্যবসার সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনাতেও কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে।

 নতুন আমদানি নীতিতে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন উপকরণ সংগ্রহেও নমনীয়তা আনা হয়েছে। আমদানি নীতি আদেশের ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে স্থানীয় উৎস থেকে দেশীয় মুদ্রায় উৎপাদন উপকরণ সংগ্রহ করতে পারবে।

এ ছাড়া ‘ফ্রি-অব-কস্ট’ বা বিনা মূল্যে উৎপাদনের কাঁচামাল সংগ্রহের সুযোগও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধার যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, আমদানি করা পণ্য এবং স্থানীয় উৎস থেকে উৎপাদন উপকরণ সংগ্রহ-সংক্রান্ত লেনদেন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এডি ব্যাংকগুলোকে আমদানি নীতি আদেশের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। নতুন আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়ে ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। এর মধ্যে নতুন কোনো আমদানি নীতি আদেশ জারি না হলে বর্তমান আদেশের বিধানই কার্যকর থাকবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত