লিভারপুল, বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখ, অ্যাস্টন ভিলায় খেলে ব্রাজিলের ক্লাব ভাস্কো দা গামায় ফিরেছিলেন ফিলিপু কুতিনহো গত বছরের জুলাইয়ে। সেখান থেকে সান্তোসে যোগ দিয়েছেন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। দীর্ঘদিনের বন্ধু ও ব্রাজিলিয়ান সতীর্থ নেইমারের সঙ্গে আবার এক ক্লাবে খেলার সুযোগ পেলেন তিনি। শৈশবের সেই বন্ধুকে পাশে পেয়ে উচ্ছ্বসিত কুতিনহো সোমবার সান্তোসের ড্রেসিংরুমে নেইমারকে জড়িয়ে ধরেন। সে সময় তিনি বলেন, 'যদি এটি স্বপ্ন হয়, তবে আমি আর ঘুম থেকে জাগতে চাই না।'
২০০৬ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় দলের ক্যাম্পে নেইমার ও কুতিনহোর প্রথম পরিচয় হয়। সেখান থেকেই তাঁদের গভীর বন্ধুত্বের সূচনা। অনূর্ধ্ব-১৭ পর্যায়ে তাঁরা একে অপরের মুখোমুখি খেলেছিলেন। তখন নেইমার খেলতেন সান্তোসের হয়ে আর কুতিনহো খেলতেন ভাস্কো দা গামার হয়ে।
২০০৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের পর একই সাথে ২০১০ সালের দিকে ব্রাজিল সিনিয়র জাতীয় দলেও তাঁদের অভিষেক ঘটে। জাতীয় দলের জার্সিতে এই দুজনে একসঙ্গে ৪০টিরও বেশি ম্যাচ খেলেছেন। তাঁদের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা বোঝাপড়া দেখা গিয়েছিল ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে, যেখানে কোচ তিতের অধীনে তাঁরা দুজনেই ছিলেন ব্রাজিলের আক্রমণের মূল ভরসা।
আবার দুই বন্ধু এক সঙ্গে খেলার সুযোগ পেলেন। সোমবার সান্তোসের স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে ১১ নম্বর জার্সি পরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন কুতিনহোর। ভাস্কো ছাড়ার পর সমালোচকদের একাংশ তাকে ‘অকৃতজ্ঞ’ বলে আখ্যায়িত করলেও কুতিনহোর দাবি করেন, ক্লাবটির প্রতি তার ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের বিষয়টি অনেকেই জানেন না। জানান, ভাস্কোয় ফেরার জন্য তাকে বিশাল আর্থিক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছিল।
'ভাস্কো সবসময়ই আমার বাড়ি। আমি ভাস্কোতেই বেড়ে উঠেছি, যুব দল থেকে শুরু করে মূল দলেও খেলেছি। ক্লাবের প্রতি আমার ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা আমি সবসময়ই প্রকাশ করেছি। যখন ভাস্কোয় ফেরার সুযোগ আসে, তখন কাতারে আমার চুক্তির আরও এক বছর বাকি ছিল এবং সেখানে আমি ১০ মিলিয়ন নেট বেতন পেতাম।”
আর্থিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আমার অ্যাস্টন ভিলার সঙ্গেও চুক্তির এক বছর বাকি ছিল। কিন্তু আমি পরিষ্কার বলেছিলাম, ভাস্কোকে আমার ট্রান্সফারের জন্য এক কানাকড়িও খরচ করতে হবে না। সেটিই ছিল আমার প্রধান অগ্রাধিকার। আর এটি নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় ছিল ভিলা থেকে প্রাপ্য অর্থ এবং এক বছরের বেতন ছেড়ে দেওয়া। আমি সব কিছু তুচ্ছ করে কেবল ক্লাবের ভালোবাসার টানেই ফিরে এসেছিলাম।”
দ্বিতীয় দফায় ভাস্কোয় ফেরার পর কোপা দো ব্রাজিল ফাইনালে হারের স্মৃতি তার মনে গভীর দাগ কেটেছিল বলে জানান কুতিনহোর। তিনি বলেন, 'গত বছর আমরা ফাইনালে পৌঁছেও দুর্ভাগ্যবশত হেরে যাই। এটি আমাকে ভীষণভাবে আঘাত করেছিল, কারণ আমি ভাস্কোর হয়ে একটি ট্রফি জিততে চেয়েছিলাম। কিন্তু নতুন বছর শুরু হওয়ার পর এস্তাদিও সাও জানুয়ারিতে আমাদের পারফরম্যান্স ভালো হচ্ছিল না।”'
আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই বিশ্বকাপে যায়নি বাংলাদেশ : তদন্ত রিপোর্ট