নতুন স্ত্রীসহ পুলিশ কর্মকর্তাকে ফ্ল্যাটে গিয়ে ধরলেন সাবেক স্ত্রী

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম

রাজশাহী নগরীর নাদের হাজির মোড় এলাকায় একটি ফ্ল্যাট থেকে এক নারীসহ এক পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। উদ্ধার হওয়া পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব আলমকে নিজের স্বামী দাবি করে এক নারীর অভিযোগের পর ঘটনাটি ঘটে। ওই নারী নিজেকে মাহবুবের ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। তবে মাহবুব আলম দাবি করেছেন, ওই নারীকে তিনি কয়েক দিন আগে তালাক দিয়েছেন। আর ফ্ল্যাট থেকে তাঁর সঙ্গে উদ্ধার হওয়া নারীকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করেছেন।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজশাহী নগরের নাদের হাজির মোড়ের একটি ফ্ল্যাটের দরজায় ওই নারী অনবরত কড়া নাড়ছিলেন। ভেতরে তাঁর স্বামী রয়েছেন—এমন দাবি তাঁর। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে ডাকাডাকি করেও দরজা খুলছিলেন না কেউ। একপর্যায়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন তিনি। পুলিশ এলেও দরজা খোলেনি। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে দরজা ভাঙার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে দরজা খুলে বের হয়ে আসেন পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব। পরে ভেতর থেকে বের করে আনা হয় পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব ও এক নারীকে। পরে পুলিশ দুজনকেই চন্দ্রিমা থানায় নিয়ে যায়।

শুক্রবার সকালে চন্দ্রিমা থানার নাদের হাজির মোড়সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ফ্ল্যাট থেকে থানায় নেওয়া পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব আলম ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছিলেন। ওই সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাঁকে চন্দ্রিমা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে মাহবুব আলম নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। এরপর তাঁকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়।

বাসা থেকে বের হওয়ার পর মাহবুবের সঙ্গে থাকা ওই নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। তিনি মুখ ঢেকে পুলিশের সঙ্গে বের হয়ে যান। তবে মাহবুব আলম দাবি করেন, ওই নারী তাঁর স্ত্রী। অন্যদিকে, ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে অবস্থান নেওয়া আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেন। মাহবুবের দাবি, আন্নিকে কয়েক দিন আগে তিনি তালাক দিয়েছেন।

আন্নি বলেন, নওগাঁর বাসিন্দা আন্নি আক্তার একজন নারী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতা। তাঁর অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব আলম তাঁকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন, মাহবুব যে জেলায় যান, সেখানেই বিয়ে করেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক রয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর।

আন্নি অভিযোগ করেন, রাজশাহীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুবের নিজস্ব একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর আগেও সেখানে মাহবুবের সঙ্গে ওই নারীকে দুই দিন পেয়েছিলেন তিনি। তখন সামাজিক ও পারিবারিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি প্রকাশ করেননি।

আন্নির ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানতে পারেন, মাহবুব তাঁর কথিত পালিত মেয়ের ভাড়া নেওয়া ফ্ল্যাটে গেছেন। সেখানে ওই নারী রয়েছেন। খবর পেয়ে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে তিনি ওই ফ্ল্যাটে যান। দরজায় কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে চন্দ্রিমা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে ভেতরে মাহবুব আলম রয়েছেন জানতে পেরে পুলিশ দরজা ভাঙেনি বলে দাবি করেন আন্নি। পরে তিনি ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দরজা ভেঙে দেন।

আন্নির দাবি, এর মধ্যে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় মাহবুব ও সানজিদা ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে ছিলেন। পুলিশ দরজা খুলতে বললেও মাহবুব দরজা খোলেননি।

দরজা খোলার পর মাহবুব আলম সানজিদাকে তাঁর স্ত্রী বলে পরিচয় দেন। পরে পুলিশ দুজনকে থানায় নিয়ে যায়।

থানায় নেওয়ার সময় সাংবাদিকেরা মাহবুব আলমের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, আন্নিকে তিনি তালাক দিয়েছেন। পুলিশের কাছে তালাকের একটি কাগজও জমা দিয়েছেন।

এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করার কথা জানিয়েছেন আন্নি।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপকমিশনার গাজিউর রহমান জানান, সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত পুলিশ পরিদর্শক মাহবুবের ভাষ্যমতে, তিনি তাঁর বিবাহিত স্ত্রীকে নিয়ে চন্দ্রিমা থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে ছিলেন। তাঁর আরেক স্ত্রী ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে জানান যে তাঁর স্বামী পুলিশ পরিদর্শক মাহবুব একটি ফ্ল্যাটে আছেন, কিন্তু কোনো সাড়া-শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে গিয়ে গেট খুলে ইনস্পেক্টর মাহবুব এবং তাঁর সঙ্গে একজন নারীকে দেখতে পান। সেখানে হট্টগোল শুরু হলে পুলিশ তাঁদের থানায় নিয়ে আসে। পরে মাহবুব ও ওই নারী নিজেদের স্বামী-স্ত্রী দাবি করেন। মাহবুব আরও দাবি করেন, স্ত্রী দাবি করা অপর নারীকে তিনি কয়েক দিন আগে তালাক দিয়েছেন।

দুই নারীর কারও পক্ষ থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ না থাকায় তাঁদের থানায় থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আন্নি আক্তার পুলিশ পরিদর্শক মাহবুব, তাঁর পালিত কন্যা ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত