বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার অন্দরমহলে এখন চরম অসন্তোষ ও ক্ষমতার লড়াই তুঙ্গে। পদত্যাগের দাবি, নানা সমালোচনার এবার যুক্ত হলো আর্থিক দাবিটাও। বিতর্কিত বাণিজ্যিক প্রস্তাব ও তহবিল নয়ছয়ের চেষ্টার পর এবার ফিফার বিশাল আর্থিক রিজার্ভের মুখ খুলে দেওয়ার জোরালো দাবি তুলেছে উয়েফা এবং কনকাকাফ। ফিফার কোষাগার থেকে বিশ্বের ২১১টি সদস্য দেশকে অন্তত ১ কোটি বা ১০ মিলিয়ন ডলার করে এককালীন অর্থের দাবি জানিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থা দুটি।
ফিফার এই ২১১টি সদস্য দেশের তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে, ফলে ফিফার এই অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত হলে ১ কোটি ডলার বা প্রায় ১২৩ কোটি টাকা পাবে বাংলাদেশও।
ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ নামের একটি নতুন কোম্পানি তৈরি করে বিশ্বকাপসহ সমস্ত প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক ও টিকিটিং স্বত্ব ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। তবে জাতীয় অ্যাসোসিয়েশনগুলোর তীব্র বিরোধিতার মুখে মাত্র চার দিনেই সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। ওই বিতর্কিত প্রস্তাবের বিরোধিতা করে উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিন ও কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টালিয়ানি জানিয়েছেন যে, ফিফার বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী এবং এ ধরনের বহিরাগত বাণিজ্যিক ঝুঁকির কোনো প্রয়োজন নেই।
৬ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ নিয়ে উয়েফা-কনকাকাফের যৌথ হুংকার
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি স্পোর্টের হাতে আসা ওই যৌথ চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, ২০২৩-২৬ আর্থিক চক্র শেষে ফিফার রিজার্ভ প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকবে, যা প্রয়োজনের তুলনায় বহুগুণ বেশি। এই বিশাল অর্থ কেবল গুটি কয়েক কর্তার খেয়ালিপনায় আটকে না রেখে ফুটবলের কল্যাণে ব্যয় করার দাবি জানানো হয়েছে।
চিঠিতে উয়েফা ও কনকাকাফ নেতৃবৃন্দ সরাসরি উল্লেখ করেছেন, ‘ফিফার বর্তমান রিজার্ভ ফুটবলের জন্য এবং এর ২১১টি সদস্য দেশের কল্যাণে ব্যবহারের জন্য। প্রজ্ঞার অজুহাতে এই বিশাল সম্পদ আটকে রাখা উচিত নয়।’ তারা আরও যোগ করেন, ‘উন্নয়ন হলো ফিফার প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব, কোনো ব্যক্তির একক ইচ্ছের বিষয় নয়। সদস্য দেশগুলোকে যেন উন্নয়নের জন্য সুশাসন বা আর্থিক সহায়তার সঙ্গে আপস করতে না হয়।’
স্বাধীন অডিট, ভবিষ্যৎ চক্র ও যৌথ পর্যালোচনার দাবি
নতুন তথ্য অনুযায়ী, উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিন এবং কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টালিয়ানি প্রস্তাব করেছেন যে, কন্টিনেন্টাল বা মহাদেশীয় কনফেডারেশনগুলো যৌথভাবে এই আর্থিক বিশ্লেষণ সম্পন্ন করবে। ফিফার বছরের শেষ ভাগের আর্থিক অবস্থা আরও পরিষ্কার হলে ফিফা কাউন্সিল নির্ধারণ করবে যে এর চেয়েও বড় কোনো অর্থ বিতরণ সম্ভব কি না এবং পরবর্তী ২০৩১-৩৪ চক্রেও এমন সমমানের বা সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করা যায় কি না।
চিঠিতে আরও জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, এই পুরো বিষয়টি কেবল অর্থের নয়, বরং সুশাসন ও সঠিক ব্যবস্থাপনার। এই প্রসঙ্গে ফিফা সহ-সভাপতিরা কড়া ভাষায় বলেন, ‘সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে যেন কখনো উন্নয়ন তহবিল এবং স্বাধীনভাবে ফিফার প্রস্তাবগুলো মূল্যায়ন করার ক্ষমতার মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে বাধ্য করা না হয়।’
আগামী ১৫ অক্টোবরের নির্ধারিত ফিফা কাউন্সিল মিটিংয়ের আগেই সমস্ত হিসাব-নিকাশ এবং বিতর্কিত নথিপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়েছে তারা। সঙ্গে মিটিংয়ে বিবেচনার জন্য সুপারিশ জমা দেওয়ার আগে ফিফার প্রকাশিত আর্থিক বিবৃতি এবং অনুমানের ওপর একটি স্বাধীন পর্যালোচনা বা অডিট কমিশন গঠনের দাবিও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, বাকি চার মহাদেশীয় কনফেডারেশনের (এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং ওশেনিয়া) সভাপতিদের কাছেও এই প্রস্তাবে সমর্থন জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন সেফেরিন ও মন্টালিয়ানি।