এশিয়ান গেমসের হকিতে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম ম্যাচেই এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হলো বাংলাদেশ নারী হকি দল। অন্যতম শক্তিশালী প্রতিপক্ষ চীনের আক্রমণ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে লাল-সবুজের রক্ষণভাগকে। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৩-০ গোলের বড় জয় তুলে নিয়েছে চীন, আর বড় হারের তিক্ত স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশের মেয়েদের।
জাপানের কাওয়াসাকি জুকো স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে শুরু করে চীনা ফরোয়ার্ডরা। মাত্র ৪ মিনিটের মাথায় ঝং জিয়াকির গোলে গোলের খাতা খোলে তারা। এরপর প্রথম কোয়ার্টারেই ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় চীন।
সেখানেই থামেনি চীনা খেলোয়াড়রা। একের পর এক আক্রমণে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে গুঁড়িয়ে দেয়। ঝং জিয়াকি ম্যাচের ২৯ মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার পাশাপাশি ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেন। প্রথমার্ধের বিরতিতে যাওয়ার আগেই স্কোরবোর্ডে ৭-০ গোলের বড় লিড নিয়েছিল চীন।
বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধেও খেলার চিত্র বদলায়নি বিন্দুমাত্র। চীনের আক্রমণ সামলাতে গিয়ে পুরো ম্যাচে পনেরোটি পেনাল্টি কর্নার এবং দুটি পেনাল্টি স্ট্রোক উপহার দেয় বাংলাদেশ। সেখানে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে চীন গোলের পর গোল করতে থাকে। ৩৬ মিনিটে ইয়াং লিউয়ের গোল থেকে শুরু করে একে একে জু মেইরং এবং চেন ই-দের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান বাড়তে থাকে।
শেষ কোয়ার্টারে ৫১ ও ৫৭ মিনিটে দুটি গোল করে ১৩-০ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করে চীন। স্কোরলাইনে দলের অর্জন যখন শূন্য সেখানে ম্যাচের ৬০ মিনিটে উল্টো হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বাংলাদেশের কণা আক্তার।
মাঠে পারফর্মের মতো বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়েও বাংলাদেশের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে চীন। বাংলাদেশের মেয়েদের অবস্থান যেখানে ৮৫ নম্বরে, সেখানে চীন আছে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে।
টুর্নামেন্টের ১২ দলের এই ইভেন্টে দুই পুল থেকে দুটি করে দল সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে। এবারের এশিয়ান গেমসে নারী হকির পদকের লড়াইয়ের পাশাপাশি ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের সরাসরি টিকিট পাওয়ারও সমীকরণ রয়েছে। সোনাজয়ী দল সরাসরি অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে এবং দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম স্থান অর্জনকারী দলগুলো পরবর্তীতে অলিম্পিক বাছাইয়ের সুযোগ পাবে। পুল ‘এ’-তে থাকা বাংলাদেশ দল তাদের পরবর্তী ম্যাচে আগামীকাল মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে।
রাফিনহার টানা দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকে বার্সার টানা সপ্তম জয়