মাদ্রিদ ডার্বি যেনো আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স লড়াই

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম
ক্লাব ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ লড়াই ‘মাদ্রিদ ডার্বি’ আজ মাঠে গড়াচ্ছে। তবে রিয়াল মাদ্রিদ ও আতলেতিকো মাদ্রিদের এই দ্বৈরথ এবার কেবল স্প্যানিশ ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই; এতে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্স ফাইনালের রোমাঞ্চ। 
 
বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ৮টায় আতলেতিকোর মাঠ মেত্রোপলিতানোতে শুরু আজকের ডার্বিতে দুই দলের স্কোয়াড জুড়েই রয়েছে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালিস্টদের ছড়াছড়ি। একদিকে রিয়ালের আক্রমণভাগে ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং মিডফিল্ডে অরেলিয়েঁ চুয়ামেনি ও এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার মতো ফরাসি দুর্গ। অন্যদিকে,  আতলেতিকোর রক্ষণে কুটি রোমেরো, নাহুয়েল মলিনা এবং আক্রমণভাগে হুলিয়ান আলভারেজদের নিয়ে গড়া এক মিনি আর্জেন্টিনা। 
 
মাত্র কদিন আগে টটেনহ্যাম ছেড়ে আতলেতিকোতে যোগ দেয়া আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার কুটি রোমেরোর জন্য এটাই প্রথম মাদ্রিদ ডার্ব। এক সাক্ষাৎকারে সেই বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতি টেনে এনেছেন তিনি। রিয়ালের আক্রমণভাগকে বোতলবন্দি করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি সরাসরি সতর্ক করেছেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে নিয়ে, "তাদের দলে ভিনিসিউস, কিলিয়ান এমবাপে এবং জুড বেলিংহামের মতো দুর্দান্ত খেলোয়াড়রা রয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের এই তিনজন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণভাগের খেলোয়াড়। ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে আমাদের খুব মনোযোগ ও সতর্ক থাকতে হবে।"
এমবাপ্পের ভয়ংকর রূপের কথা স্মরণ করে এই আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগ তারকা আরও যোগ করেন, "এমন কিছু খেলোয়াড় আছে, যারা হয়তো ম্যাচের একটা সময় নিষ্প্রভ থাকে, কিন্তু দুই-তিন মিনিটের মধ্যে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে। যেমনটা ২০২২ সালের ফাইনাল ম্যাচে এমবাপের ক্ষেত্রে হয়েছিল। ৮০ মিনিট ধরে আমরা (আর্জেন্টিনা) আধিপত্য বিস্তার করে খেললেও শেষ দশ মিনিটে সে হঠাৎ করেই দুই গোল করে বসল।"
 
জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বজয়ের অভিজ্ঞতা এবং টানটান উত্তেজনার ম্যাচ খেলার শিক্ষাটাই আজ ক্লাব ফুটবলের এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে কাজে লাগাতে চান রোমেরো। নিজের প্রথম ডার্বি নিয়ে উচ্ছ্বসিত এই ডিফেন্ডার জানান, "এই ম্যাচের জন্য আমি সত্যিই রোমাঞ্চিত। আমি জানি ক্লাব এবং আমার নিজের জন্যও এই ম্যাচটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।"
 

ডাগআউটে মুখোমুখি মরিনহো-সিমিওনে

এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে এক দশকেরও বেশি সময় পর লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে যাচ্ছেন দুই হাই-প্রোফাইল কোচ—হোসে মরিনহো এবং ডিয়েগো সিমেওনে। ২০১৪ সালের পর এই দুই কোচ আর একে অপরের মুখোমুখি হননি। সেবার মরিনহো ছিলেন চেলসির দায়িত্বে এবং স্টামফোর্ড ব্রিজে সিমেওনের আতলেতিকো চেলসিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় করে দিয়েছিল।

তবে রিয়াল ও আতলেতিকোর ডাগআউটে তাদের এই দ্বৈরথ নতুন কিছু নয়। এর আগে ২০১২ সালে ভিসেন্তে কালদেরন স্টেডিয়ামে রিয়ালের কোচ হিসেবে প্রথম মেয়াদে সিমেওনের আতলেতিকোর মুখোমুখি হয়েছিলেন মরিনহো; সেবার ৪-১ ব্যবধানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ।

ম্যাচটির আগে মরিনহো বলেন, "এটি একটি ডার্বি। ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সমর্থকদের আবেগের কারণে ডার্বি সবসময়ই অন্যরকম বিশেষ কিছু। তবে স্পষ্টতই, ৩ পয়েন্ট অর্জন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।"

আতলেতিকো মাদ্রিদ আতালেতিক ক্লাব ও লিভারপুলের কাছে টানা হারের পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তারা রিয়াল সোসিয়েদাদকে ৩-০ এবং ওসাসুনাকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে। অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদও এলচেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে এই ডার্বিতে নামছে।

ঘরের মাঠের সুবিধা ও ট্যাকটিক্যাল লড়াই

মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে রিয়ালের সাম্প্রতিক রেকর্ড খুব একটা সুখের নয়। গত ১১টি অ্যাওয়ে ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটিতে জিতেছে তারা, যার মধ্যে লা লিগার শেষ জয়টি ছিল চার বছর আগে। গত মৌসুমে এই মাঠে রিয়াল ৫-২ গোলে হেরেছিল।

সিমেওনে রিয়ালের মূল অস্ত্র হিসেবে তাদের কাউন্টার-অ্যাটাক ও ট্রানজিশনকে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, "বল হারালেই তারা কিলিয়ান এমবাপে ও ভিনিসিউস জুনিয়রকে খুঁজে নেয়। আমাদের খেলায় পূর্ণ মনোযোগ রাখতে হবে এবং কোনো ভুল করা যাবে না।"

ম্যাচ নিয়ে সতর্ক অবস্থানে থেকেও সিমেওনে নিজের খেলোয়াড়দের শান্ত থাকার এবং স্নায়ুচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার তাগিদ দিয়েছেন। অন্যদিকে, রিয়ালের আক্রমণভাগে ফরাসি ফরোয়ার্ড এমবাপের পাশাপাশি ভিনিসিউস ও বদলি হিসেবে নামা তরুণ খেলোয়াড়রা ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন।

দলের ইনজুরি সমস্যা থাকলেও জুলিয়ান আলভারেজকে এই ম্যাচে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিমেওনে। আর রিয়ালের দায়িত্বে ১০০ দিন পূর্ণ করা মরিনহো জানিয়েছেন, তিনি এই ডার্বির জন্য শতভাগ উজাড় করে দিতে প্রস্তুত।

 

 


সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত