প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চলতি বছরের অধিবেশনে (ইউএনজিএ) যোগ দিতে আজ সোমবার ঢাকা ত্যাগ করছেন। তিনি আগামী বৃহস্পতিবার বিশ্ব সংস্থাটির ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।
তার পরিবারের প্রথম সদস্য পিতা জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট ইউএনজিএতে ভাষণ দিয়েছিলেন। এরপর তার মা বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর এই পরিষদে ভাষণ দেন।
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল রবিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতিসংঘের মতো সর্বোচ্চ বৈশি^ক মঞ্চে বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। এর বাইরে সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের বক্তৃতার সময় সভাপতিত্ব করবেন ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, যা একদিকে যেমন বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত, তেমনি অন্যদিকে বিশেষ মর্যাদা ও গৌরবের বিষয়।
নিউ ইয়র্ক পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী ২২ সেপ্টেম্বর সকালে অধিবেশনে যোগদানকারী রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে স্বাগত প্রাতরাশে যোগ দেবেন। এরপর তিনি অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে অংশ নেবেন। সেদিন সন্ধ্যায় তিনি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে সস্ত্রীক যোগ দেবেন।
তারেক রহমান ২৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন। এরপর তিনি ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে এবং স্পেনের আয়োজনে বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলাবিষয়ক একটি সভায় বক্তব্য দেবেন। বিকেলে তিনি জলবায়ু বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের সভায় যোগ দেবেন। সেদিনই রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে বাংলাদেশের আয়োজনে একটি সভায় তিনি রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে মিয়ানমারে পাঠাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন।
২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ইউএনজিএর বিতর্ক পর্বে বাংলায় ভাষণ দেবেন। এর আগে তিনি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলা বিষয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন। এ সভায় তিনি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের পক্ষে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান তুলে ধরবেন। সেদিনই মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ে একটি অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন।
ইউএনজিএর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার বৈঠক হতে পারে।
ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব ও তার মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত, বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারগণ এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে তিনি মেটাসহ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন।
বোয়িং কেনা নিয়ে প্রশ্ন : যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে দেশটির সঙ্গে বোয়িং কেনা বিষয়ে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া; তাই সব বিকল্পই খোলা রয়েছে।’ যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে বাংলাদেশের ২৫টি বোয়িং কেনার কথা রয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রস্তুতি : রাষ্ট্রীয় বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারেক রহমানের নিউ ইয়র্ক আগমন উপলক্ষে প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ এবং বিএনপি, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিমানবন্দর ও জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে নির্ধারিত কর্মসূচিগুলোয় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মহানগরীতে বাংলাদেশিদের কেন্দ্রস্থল জ্যাকসন হাইটসে এ উপলক্ষে সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
নিউ ইয়র্কের কর্মসূচি শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে প্রধানমন্ত্রীর দেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।