অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন

ভবিষ্য তহবিলের সুদ আগের মতোই থাকছে

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৪ এএম

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাধারণ ভবিষ্য তহবিল (জেনারেল প্রভিডেন্ড ফান্ডজিপিএফ) ও প্রদেয় ভবিষ্য তহবিলে (কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ড ফান্ডসিপিএফ) জমাকৃত অর্থের মুনাফা আগের মতোই তিনটি পৃথক স্ল্যাবে থাকছে।

তিন স্তরের জমাকৃত অর্থে যথাক্রমে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ১৩ শতাংশ, ১৫ লাখ ১ টাকা থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ১২ শতাংশ এবং ৩০ লাখ ১ টাকা থেকে পরবর্তী যেকোনো পরিমাণ সঞ্চয়ে মুনাফা পাবেন ১১ শতাংশ।

গতকাল সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

সরকার প্রতি অর্থবছরেই জিপিএফ ও সিপিএফের সুদহার স্পষ্টীকরণ করে প্রজ্ঞাপন দিয়ে থাকে বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রবিধি অনুবিভাগ) ড. মো. ফেরদৌস আলম। তিনি বলেন, জিপিএফে সরকারি কর্মচারীদের সঞ্চিত অর্থ নিরাপদ, মুনাফা বেশি ও করমুক্ত। সরকার এই তহবিল থেকে ঋণ নিয়ে থাকে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০২১ সালের আগে জিপিএফ ও সিপিএফে ১৩ শতাংশ ফ্ল্যাট সুদহার ছিল। সরকারি কর্মচারীরা তখন মূল বেতনের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত জিপিএফে টাকা রাখা যেত। এতে সব পর্যায়ের কর্মচারীরা বেশি অর্থ সঞ্চয় করত। সরকারও এই বিপুল অর্থ সহজে পেত এবং ঋণ হিসাবে নিয়ে ব্যবহার করত। ফলে, সরকারের জন্য এই ঋণের বিপরীতে প্রদেয় সুদের পরিমাণ একটি বড় দায় সৃষ্টি করত। ওই দায় কমাতে বিগত ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে জিপিএফ ও সিপিএফে সঞ্চয়ের পরিমাণ কমাতে একজন সরকারি কর্মচারীর মোট বেতনের সর্বনিম্ন ৫ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। সুদহারেও পরিবর্তন এনে তিন স্তরের স্ল্যাব করে দেওয়া হয়।

গত ৬ অর্থবছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা জিপিএফ ও সিপিএফে বর্তমান হারে মুনাফা পেয়ে আসছেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দি জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড রুলস-১৯৭৯ এর রুল ১২(১) এবং দি কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড রুলস-১৯৭৯ এর রুল ১২ এর বিধান অনুযায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত জিপিএফ এবং সিপিএফের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মুনাফার হার সø্যাবভিত্তিক নির্ধারণ করা হয়েছে। সিপিএফভুক্ত সব প্রতিষ্ঠানের (স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, করপোরেশন ইত্যাদি) আর্থিক সঙ্গতি একরকম না হওয়ায় প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব আর্থিক বিধিবিধান ও আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী, এই হারকে সর্বোচ্চ বিবেচনায় নিয়ে সিপিএফে জমা হওয়া আমানতের ওপর হ্রাসকৃত হারে মুনাফা নির্ধারণ করতে পারবে।

জিপিএফে মুনাফা বা সুদ চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকে। এই তহবিলে রাখলে মুনাফাসহ টাকা দেয় সরকার। চাকরি শেষে ভালো একটা অঙ্ক নিয়ে ঘরে ফিরতে পারেন সরকারি কর্মচারীরা।

অন্যদিকে সিপিএফে টাকা রাখলে যে পরিমাণ টাকা রাখেন কর্মচারীরা, সরকার ওই পরিমাণ টাকাই তাদের অনুদান দেয়। ড. মো. ফেরদৌস আলম জানান, সংশ্লিষ্ট সব স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, করপোরেশন বা কোম্পানি ওই অর্থ সরকারের কাছে বিনিয়োগ করে তার বিপরীতে মুনাফা নেয়। পরবর্তীতে ওই অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে বিতরণের বিধি রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত