দুই উপজেলার মাঝে ছোট্ট একটি নদী। এই নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা নৌকা। ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী কিংবা মুমূর্ষু রোগী নদী পারাপারে দুর্ভোগের শেষ নেই। অথচ এই নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েই কেটে গেছে দীর্ঘ ৫০ বছর।
নেত্রকোনা ও দুর্গাপুর যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ডেউটুকোন এলাকায় কংস নদী পারাপারের এই দুর্ভোগ দীর্ঘদিনের। সদর থেকে শ্যামগঞ্জ হয়ে দুর্গাপুরের দূরত্ব ৫০ কিলোমিটার। অন্যদিকে নেত্রকোনার রাজুর বাজার থেকে দুর্গাপুরের দূরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার। শুধুমাত্র এই ব্রিজটি নির্মাণ হলেই দূরত্ব কমে যাবে ২৫ কিলোমিটার। এতে করে অর্থের পাশাপাশি সাশ্রয় হবে সময়ের।
বর্তমানে এই নদী পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষকে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত থেকে শুরু করে মুমূর্ষু রোগী পরিবহনে ভোগান্তির শেষ নেই। ২০১৯ সালে নদী পারাপারে একটি ফেরি চলাচল শুরু হলেও তাও বছরের পর বছর পড়ে থেকে নষ্ট হয়েছে। ফলে নৌকাই এখন যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম।
স্থানীয়রা জানায়, স্বাধীনতার পর থেকেই কংস নদী পারাপারে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের জরুরি চিকিৎসা সেবা পেতে নদী পার হওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। তাই দ্রুত এই নদীর ওপর একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছে তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান, গত প্রায় ১৭ বছর ধরে পূর্ববর্তী সরকারের আমলে ডেউটুকোন ঘাটে একটি স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে আসছিলাম। কিন্তু সেতু না দিয়ে একটি ফেরি চালু করা হয়। যা মাত্র দুই-তিন দিন চলার পর বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে একাধিকবার মাপজোখ ও টেন্ডারের নাটক করে জনগণকে কেবল আশ্বাসই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেতু আর আলোর মুখ দেখেনি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে আমাদের বর্তমান স্পিকার (ডেপুটি স্পিকার) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি জয়ী হলে সবার আগে এই ডেউটুকোন ঘাটের ব্রিজটি করা হবে। আমরা দুর্গাপুর ও কলমাকান্দাবাসী তার কাছে বিনম্র অনুরোধ জানাচ্ছি যেহেতু এই ব্রিজের কাজ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তাই জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত যেন টেন্ডার আহ্বান করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করা হয়।
নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. খারুল ইসলাম বলেন, নেত্রকোনা-ডেউটুকোন-বিরিশিরি-দুর্গাপুর সড়কটি নেত্রকোনা সড়ক বিভাগের অধীনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা মহাসড়ক। এর মাঝখানে কংস নদী অবস্থিত যেখানে কোনো সেতু নেই। যদিও নদীর দুই পাশেই আমাদের সড়ক যোগাযোগ সচল রয়েছে। এই সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্থানীয় জনগণের জন্য খুবই জরুরি। সেতুটির ফিজিবিলিটি স্টাডি (ফিজিবিলিটি সমীক্ষা) অনেক আগেই শেষ হয়েছে। তার ভিত্তিতে ডিজাইন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং বর্তমানে এটি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। ড্রয়িং ও ডিজাইন সম্পন্ন হলেই আমরা দ্রুত ডিপিপি (উচ্চ) তৈরি করে প্রজেক্ট সাবমিট করব।
সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ডেউটুকোন প্রজেক্ট প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে এবং প্রয়োজনীয় কিছু সার্ভে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় ডেউটুকোন সেতু, সোমেশ্বরী সেতু এবং বরুয়াকোনা সেতু নির্মাণ করা আমার রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছিল। ইতিপূর্বে ৩ হাজার ৭শ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচটি সেতু অনুমোদন লাভ করেছে এবং ডেউটুকোন সেতুটিও বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ইনশাআল্লাহ, দুর্গাপুরের মানুষের ডেউটুকোন সেতু দিয়ে সরাসরি নেত্রকোনায় যাতায়াতের যে প্রত্যাশা। তা আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।