চট্টগ্রামে দুই লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণকালে গ্রেপ্তার হওয়া সাব-রেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এ সংস্থাটির সহকারী পরিচালক সাঈদ এমরান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সাব-রেজিস্ট্রারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এদিকে ঘুষ গ্রহণের দায় স্বীকার করে পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও অফিসের উমেদার রূপন দাশ বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকারম হোসেন।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপন দাশকে দুই লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণকালে হাতেনাতে আটক করা হয়। দুদকের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এর একটি বিশেষ ট্র্যাপ টিম এ অভিযান পরিচালনা করে।
দুদক জানায়, চট্টগ্রামের এক আইনজীবী তাঁর মক্কেলের দুটি অংশীদারি চুক্তিপত্র রেজিস্ট্রির জন্য পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমা দেন। নিয়ম অনুযায়ী দলিলে কোনো ধরনের ত্রুটি না থাকলেও সাব-রেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান কাজটি আটকে রাখেন এবং এক মাস ধরে ওই আইনজীবীকে ঘোরাতে থাকেন।
পরবর্তী সময়ে দলিল দুটি দ্রুত রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার জন্য সাব-রেজিস্ট্রার ও হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ওই আইনজীবীর কাছে অবৈধভাবে দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। কোনো উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী আইনজীবী প্রতিকার চেয়ে প্রথমে দুদকের হটলাইন ১০৬-এ কল করেন। পরে দুদকের জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১-এ লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর দুদকের বিশেষ ট্র্যাপ টিম অভিযান পরিচালনা করে ঘুষের টাকাসহ সাব-রেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপন দাশকে হাতেনাতে আটক করে।