হাওরপাড়ের কাদামাটি থেকে বিচারকের আসনে শুভ আহমেদ

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম

বর্ষায় চারদিকে থইথই পানি। শুকনো মৌসুমে কাদামাটির পথ। যোগাযোগের সংকট আর সীমিত সুযোগ-সুবিধাই যেখানকার নিত্যদিনের বাস্তবতা—সেই হাওরপাড়ের জগন্নাথপুর থেকেই এবার বিচারকের পথে হাঁটছেন এস এম শুভ আহমেদ। বাবার ছোট্ট কাপড়ের দোকানের আয়, পরিবারের সীমিত সামর্থ্য আর নানা প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে ১৮তম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের সন্তান শুভ আহমেদ। তার বাবা মো. কুদ্দুস মিয়া গ্রামের একজন ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ী। ছোট্ট সেই দোকানই ছিল পরিবারের আয়ের অন্যতম অবলম্বন। দোকানের আয় দিয়েই সংসার চালানোর পাশাপাশি সন্তানের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন তিনি।

প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলের এই গ্রামে বেড়ে ওঠা শুভর সামনে সুযোগের চেয়ে বাধাই ছিল বেশি। তবে সেই বাধাকে অজুহাত করেননি তিনি। মেধা, অধ্যবসায় ও নিজের লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থেকে এগিয়ে গেছেন। একসময় গ্রামের কাদামাটি পেরিয়ে পাড়ি জমান রাজধানীতে। ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। সেখানকার পড়াশোনা শেষ করে এবার জুডিসিয়াল সার্ভিসের কঠিন প্রতিযোগিতায় সফল হয়েছেন। 

শুভ আহমেদের এই সাফল্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার পরিবারের আরেকটি পরিচয়ও। তিনি পুলিশ কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেনের ছোট ভাই। দুই ভাইয়ের কর্মজীবনের পথ ভিন্ন হলেও শুভর এই অর্জনে পরিবারের দীর্ঘদিনের উৎসাহ-সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

শুভর সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে জগন্নাথপুরসহ আশপাশের এলাকায়। যে গ্রামের পথে হেঁটে তার শৈশব কেটেছে, যে ছোট্ট দোকান থেকে বাবা সন্তানের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করেছেন, সেই বাস্তবতা পেরিয়ে শুভ এখন বিচারকের দায়িত্ব পালনের দ্বারপ্রান্তে।

তার এই অর্জন শুধু একটি চাকরিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার খবর নয়, প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলের একটি পরিবারের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের গল্প। একই সঙ্গে সীমিত সুযোগের মধ্যেও মেধা ও অধ্যবসায় ধরে রাখলে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকেও উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব—শুভ আহমেদের পথচলা তারই একটি উদাহরণ।

জগন্নাথপুরের কাদামাটি থেকে শুরু হওয়া যে পথচলা, সেটিই এখন তাকে নিয়ে যাচ্ছে বিচারকের আসনের দিকে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত