হঠাৎ এলপিজির সংকট

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৫ এএম

আকস্মিকভাবে বাজারে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকট দেখা দিয়েছে। ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ৩৫০ টাকা। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদার অর্ধেক এলপিজি মিলছে। অন্যদিকে আমদানিকারকরা বলছেন, প্রিমিয়াম বেড়ে দ্বিগুণ হওয়ায় অনেকেই এলপিজি আনছেন না।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এলপিজির দামও বেড়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর আগে বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রি হলে মোবাইল কোর্ট অভিযান চালাতে দেখা গেলেও এবার এখনো তা শুরু হয়নি। এলপিজি আমদানিকারকদের অনেকে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) জানিয়েছে, তারা আগামী মাসের এলপিজি আনার জন্য জাহাজ পাচ্ছেন না। ফলে ভবিষ্যতে এলপিজির আরও বেশি সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সংকটের কোনো কারণ আমি দেখছি না। আগস্ট মাসে এলপিজি এসেছে ১ লাখ ৫৭ হাজার টন। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত এসেছে ১ লাখ ১৯ হাজার টন। এর আগের মাসগুলোতে ১ লাখ ১০ হাজার টন থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টন এলপিজি এসেছে। কাজেই সংকট থাকার কোনো কথা নয়। আমদানিকারকরা যতটা প্রিমিয়াম বৃদ্ধির কথা বলছেন, ততটা বাড়েনি বলে আমাদের কাছে খবর রয়েছে। গত মাসে তারা প্রিমিয়াম দিয়েছিল ১৬০ ডলার। এখন তারা ৩০০ ডলার চাইছে। এটা অতিরিক্ত বলে আমাদের মনে হয়েছে।’

প্রতি মাসের শুরুতে এলপিজির বাজারদর নির্ধারণ করে বিইআরসি। গত ২ সেপ্টেম্বর এলপিজি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু বাজারে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। গত দুই মাস ধরেই প্রতি সিলিন্ডার ১ হাজার ৮০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু গত কয়েক দিন এলপিজির বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতি সিলিন্ডার এলপিজি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১৫০ টাকায়। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে এই দাম ৫৬৫ টাকা বেশি। অন্যদিকে প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে এই দাম ৩৫০ টাকা বেশি।

রাজধানীর রামপুরার বাসিন্দা আনিসুর রহমান জানান, ‘গত মাসেও এলপিজি কিনেছিলাম ১ হাজার ৮০০ টাকায়। কিন্তু বুধবার কিনতে গেছি, দাম নিয়েছে ২ হাজার ১৫০ টাকা। বাড়তি দামের কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতা বলেছেন, কোম্পানি থেকেই দাম বাড়ানো হয়েছে। তাদের কিছু করার নেই।’

রাজধানীর বনশ্রী সি ব্লকের একজন এলপিজির খুচরা বিক্রেতা জানান, ‘বাজারে অনেকটা আকস্মিকভাবে এলপিজির সংকট দেখা দিয়েছে। কোম্পানির কাছে ২০০ সিলিন্ডারের অর্ডার পাঠালে এক সপ্তাহ পর ১০০ সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে। দামও বেড়েছে। আমরা জানতে চাইলে বলা হচ্ছে, দাম বেড়েছে। তাদের কিছু করার নেই।’

দেশে গ্যাস সংকট তীব্র হওয়ায় প্রাকৃতিক গ্যাসের সংযোগ বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে দেশে কাঠের দাম বেড়ে যাওয়ায় মানুষ এলপিজির দিকে ঝুঁকেছে। এখন সারা দেশের বেশিরভাগ সচ্ছল পরিবার এলপিজি ব্যবহার করেন। শুধু শহর নয়, গ্রামের বেশিরভাগ মানুষও এলপিজি ব্যবহার করেন। ফলে এলপিজির দাম বাড়লে দুর্ভোগ বাড়ে। দেশের এক কোটির বেশি পরিবার এলপিজি ব্যবহার করে। আবাসিকে ছাড়াও পরিবহন ও শিল্পে এখন এলপিজি ব্যবহার হচ্ছে।

টিএমএসএস এলপিজির কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, হুট করে প্রিমিয়াম অর্থাৎ জাহাজভাড়া বেড়ে গেছে। এটি গত মাসেও টনপ্রতি ছিল ১২০ থেকে ১৬০ ডলারের মধ্যে। এখন যা ৩০০ ডলারে উঠেছে। চলতি মাসের দাম বিইআরসি ২ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেছে। এখন চাইলেও বেশি ভাড়া দিয়ে এলপিজি আনা হলে বিইআরসি এই দাম সমন্বয় করবে না। এ জন্য অনেকে এলপিজি আনছেন না। আবার বিইআরসি মূল্য সমন্বয় করলে আমদানিকারকরা এলপিজি আনবেন বলে মনে করেন তিনি।

বিইআরসি প্রতি মাসে সৌদি আরামকো নির্ধারিত প্রোপেন ও বিউটেনের দামের সঙ্গে জাহাজভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম যোগ করে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। দেশের এলপিজিতে প্রোপেন ও বিউটেন ৩৫:৬৫ অনুপাতে মেশানো হয়।

গত মাসে ঘোষিত সৌদি সিপি অনুযায়ী, প্রোপেন ও বিউটেনের দাম ছিল যথাক্রমে প্রতি টন ৬২৫ ও ৬৬০ ডলার। এর গড় দাম ছিল প্রতি টন ৬৪৭ দশমিক ৭৫ ডলার। এলপিজি আমদানিতে জাহাজভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম প্রতি টন ১৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে দেয় বিইআরসি। প্রতি মার্কিন ডলারের গড় বিনিময় মূল্য ১২৩ দশমিক ৩০ টাকা বিবেচনায় সেপ্টেম্বরের দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত