ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৭ এএম

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এতে চলতি বছরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৬৯ হাজার ১৪৯ জন এবং মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে।

গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক দৈনিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসেই ডেঙ্গুর সবচেয়ে বিস্তার ঘটেছে এবং রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিভাগে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

ডেঙ্গুর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে বর্ষা-পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে এবং আগামী সপ্তাহগুলোতেও উচ্চ সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। ডব্লিউএইচও সদস্য দেশগুলোকে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থার মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং পানি জমে থাকার কারণে এডিস মশার বিস্তার বাড়ছে; ফলে কার্যকর ভেক্টর নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হতে পারে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, উচ্চজ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেশি এবং জয়েন্টের ব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি, ফোলা গ্রন্থি ও ফুসকুড়ি এগুলো ডেঙ্গুর লক্ষণ। যারা দ্বিতীয়বার সংক্রমিত হন, তাদের গুরুতর ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি থাকে। গুরুতর ডেঙ্গুর লক্ষণগুলো প্রায়শই জ্বর চলে যাওয়ার পরে দেখা দেয়। যেমন তীব্র পেটে ব্যথা, ক্রমাগত বমি, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত, ক্লান্তি, অস্থিরতা, বমি বা মলের সঙ্গে রক্ত, খুব তৃষ্ণার্ত হওয়া, ফ্যাকাশে এবং ঠা-া ত্বক, দুর্বল বোধ করা। এই গুরুতর লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত। ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার পর, রোগীরা কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্লান্তিবোধ করতে পারেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগের (ঢাকা মহানগরের বাইরে) বিভিন্ন হাসপাতালে। এই বিভাগে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৩৭১ জন। এর পরেই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ, যেখানে ভর্তি হয়েছেন ২৮৮ জন। খুলনা বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ২৮৬ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ১৯৪ জন। এছাড়া বরিশাল বিভাগে ১৬৪ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১৫১ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে তিনজন, খুলনা বিভাগে তিনজন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে একজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মারা যাওয়া আটজনের মধ্যে ছয়জন নারী এবং দুইজন পুরুষ।

বয়সভিত্তিক হিসাবে একজন ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী, একজন ৩১ থেকে ৩৫ বছর বয়সী নারী, একজন ৩৬ থেকে ৪০ বছর বয়সী পুরুষ, একজন ৪১ থেকে ৪৫ বছর বয়সী পুরুষ, ৪৬ থেকে ৫০ বছর বয়সী দুই নারী, একজন ৬১ থেকে ৬৫ বছর বয়সী নারী এবং একজন ৮০ বছরের বেশি বয়সী নারী রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫ হাজার ৬৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ১ হাজার ৩৭ জন এবং ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ৪ হাজার ২৯ জন ভর্তি আছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ নারী। তবে মৃত্যুর ক্ষেত্রে নারীর হার বেশি। মোট মৃত্যুর ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ নারী এবং ৪৭ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত