জলবায়ুর ক্ষয়ক্ষতি কাটাতে ৫ জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৯ এএম

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তুলতে পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে বুধবার জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের এক সভায় তিনি এ আহ্বান বলেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে নিউ ইয়র্ক রয়েছেন।

তারেক রহমান বলেন, প্রথমত, প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সীমা বজায় রাখতে বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে হবে। দ্বিতীয়ত, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন খাতে পূর্বানুমেয় ও সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে আরও বেশি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে একটি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক জলবায়ু উত্তরণের পথ তৈরি করতে হবে। চতুর্থত, সুলভ অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ¦ালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে হবে। সর্বশেষে, ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিতভাবে এর অর্থ পুনঃপূরণের আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের মোট গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম; অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দেশের জিডিপির প্রায় ১ শতাংশের সমপরিমাণ। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির পরিণতিতে বাংলাদেশে উপকূলীয় এলাকায় কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্যনিরাপত্তাও গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়বে।

চলতি বছরের বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রায় ৩১৯ কোটি (৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন) ডলার বরাদ্দসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি এড়াতে পারবে না। ‘অভিন্ন কিন্তু পৃথক দায়িত্ব ও নিজ নিজ সক্ষমতা’ নীতির ভিত্তিতে সম্মিলিত পদক্ষেপ এখন অপরিহার্য।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার ‘সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে অস্তিত্বে হুমকি’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের আরেকটি সভায় বক্তব্য রাখেন। তিনি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে উপকূলীয় ও দ্বীপরাষ্ট্রসহ জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সৃষ্ট বহুমাত্রিক ও অস্তিত্বগত হুমকির বিষয়টি তুলে ধরেন। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগ, ন্যায়সঙ্গত অর্থায়ন, অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর নিউ ইয়র্ক সময় বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় (বাংলাদেশ সময় গতরাত সাড়ে ৩টায়) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এ ভাষণের মাধ্যমে তারেক রহমান তার পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিচ্ছেন। তার পিতা জিয়াউর রহমান দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট এবং মা বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর প্রথমবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে মোট পাঁচবার জাতিসংঘে ভাষণ দেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার আগে তারেক রহমান থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল ও জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সাক্ষাৎসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট সাক্ষাৎকালে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গভীর করা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ-ইরান যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের সভা আয়োজনের আহ্বান জানান। তারেক রহমান শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার ওপর জোর দেন।

তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের ৩৪তম তলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই নেতা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে গঠনমূলক মতবিনিময় হয়। দুই প্রধানমন্ত্রী পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমঝোতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ ছাড়া ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রে প্লেনকোভিচ, গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক সুজম্যানও তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।  প্রধানমন্ত্রী গত ২১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক পৌঁছান। চার দিনের ব্যস্ত সময় পার করে নিউ ইয়র্ক সময় ২৫ ফেব্রুয়ারি তার ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত