রিমান্ডে নির্যাতনের অভিযোগ

ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে : গাজী সালাউদ্দিন

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৭ এএম

কারাগার ও রিমান্ডে থাকাকালে চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীর। তিনি বলেছেন, এখনো রাষ্ট্রযন্ত্রের মধ্যে ফ্যাসিস্ট হাসিনার কালো ছায়া রয়ে গেছে। জেলে গিয়ে তার প্রমাণ পেয়েছি। আমার শরীরে অন্তত ৭০ থেকে ৮০টি অজ্ঞাত ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে। এতে শরীরের বিভিন্ন অংশ অবশ হয়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তানভীর। এ সময় তার পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার তুষার এবং দলের স্বাস্থ্য, মানবাধিকার ও আইন সেলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নিজের শারীরিক অবস্থা এবং কারাগার ও রিমান্ডে থাকার সময়ের বিভিন্ন ঘটনার কথা তুলে ধরেন তানভীর বলেন, ৫ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কারাগার ও রিমান্ডে তাকে চরম নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতনের বিষয়টি বাইরে প্রকাশ করলে পরিবারের সদস্যদের গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তবে হুমকি উপেক্ষা করে সত্য জানাতে এসেছেন বলে জানান তানভীর। জীবনের ঝুঁকি থাকলেও তিনি কাউকে ভয় পান না।

তানভীরের অভিযোগ, কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতন করা হয়। ২ আগস্ট সাইবার সুরক্ষা আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ৫ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বগুড়া সদর থানা বিএনপির সভাপতি এইচ এস মাফুতুন আহমেদ খান মামলার বাদী। গ্রেপ্তারের পর বগুড়া কারাগারের একটি সেলে তাকে রাখা হয়। তার দাবি, সেলটি ছিল অপরিচ্ছন্ন। সেখানে আলো-বাতাসের ব্যবস্থা ছিল না। বিদ্যুৎ বা ফ্যানও ছিল না। কারাগারে খাবার নিয়েও অভিযোগ করেন তিনি।

তানভীরের অভিযোগ, নির্যাতনের সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও সালাহউদ্দিন আম্মারের নাম উল্লেখ করে বলা হতো, জুলাইয়ের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে এভাবে নির্যাতন করা হবে। তবে কারাগারে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়। তার দাবি, তাদের অনেকে কারাগারে ভালো অবস্থায় ছিলেন। ফোনে কথা বলতেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ করতেন। এমনকি রাতে আওয়ামী লীগের নেতাদের গাড়িতে করে বাইরে নিয়ে যাওয়া হতো। পরে ভোরে তাদের কারাগারে ফিরিয়ে আনা হতো।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আপত্তিকর ও মানহানিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় তানভীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে আদালত তাকে রিমান্ডে পাঠায়। বিষয়টি নিয়ে এর আগে সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। এরপর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন। তাকে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে এর আগে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও প্রশ্ন তুলেছিলেন। তানভীরের চিকিৎসার পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড প্রকাশের দাবিও জানিয়েছিলেন তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত