সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে মনে করছেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-সাউথ) মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া। গতকাল শুক্রবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ‘বিস্ফোরক দ্রব্য ও মুখোশ উদ্ধার সংক্রান্ত’ সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। ককটেল বিস্ফোরণের প্রতিবাদে আয়োজিত এক মিছিল শেষে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেছেন, ‘সরকার আমাদের প্রধান তিনটি দাবি মেনে নিলে ঢাকা শহরে আর কোনো ধরনের ককটেল বিস্ফোরণ ঘটবে না।’ ফলে সম্প্রতি যেসব ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে, সেগুলো কি শুধু কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরাই ঘটাচ্ছে, নাকি অন্য কেউ জড়িত এমন প্রশ্নের জবাবে যুগ্ম কমিশনার বলেন, আমার কাছে মনে হয়, তাকে (নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী) জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। তিনি এই বক্তব্যটা কেন দিয়েছেন। অবশ্যই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। কিন্তু তাকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলতে পারবেন।
সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে ককটেল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও মুখোশসহ জাহিদ হাসান ইমন (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান যুগ্ম কমিশনার। তিনি বলেন, যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তে ইমনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। পরে গতকাল ভোররাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন বাগাশুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ককটেল তৈরিতে ব্যবহৃত দেড় কেজি কস্টিক সোডা, ১৬০০ গ্রাম সালফার, ৫ কেজি মারবেল, তারকাঁটা ২ কেজি ও ৩১কটি স্কচটেপ উদ্ধার করা হয়েছে। কাগজের তৈরি তিন কার্টনে মোট ৯ হাজার পিস মুখোশ পাওয়া গেছে। মুখোশ পরার জন্য ৩০ প্যাকেট ইলাস্টিকও উদ্ধার করা হয়েছে। ককটেল তৈরির উপাদান বিচূর্ণ করার কাজে ব্যবহৃত জাইপান ব্র্যান্ডের একটি ব্লেন্ডার ও একটি জারও উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ইমন স্বীকার করেছেন, লালবাগের এক নেতার মাধ্যমে অজ্ঞাত এক ভ্যানচালকের সাহায্যে প্রস্তুত করা মুখোশগুলো তার কাছে পাঠানো হয়। পরে বিভিন্ন নেতাকর্মীর মধ্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে মুখোশগুলো তার বাসায় সংরক্ষণ করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে।