দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা। এখনো স্থলবন্দরটি আওয়ামী লীগ সিন্ডিকেটের দখলে। বন্দরের লেবার হ্যান্ডেলিং কোম্পানি আফতাহী ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের (এটিআই) মাধ্যমে বছরে ২৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা যায় সিন্ডিকেটের পকেটে। এই কোম্পানির প্রোপ্রাইটর বুড়িমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল আমিন ওরফে বাবুল হোসেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পঞ্চগড়ে দুর্নীতির বড় ঘটনার মধ্যে স্থলবন্দরে লেবার হ্যান্ডেলিং একটি। আমদানি পণ্যের লোড-আনলোড বাবদ প্রতি টনে ১৫০ টাকার বেশি নেওয়া হলেও কোনো কাজ না করেই পুরো টাকা হাতিয়ে নেয় বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট ও লেবার হ্যান্ডেলিং কোম্পানি।
আমদানিকারকদের অভিযোগ, সেবা না দিয়েও অর্থ আদায় করছে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। তারা লোড-আনলোড এবং অন্যান্য খরচসহ প্রতি টনে ১৯১ টাকা আদায় করলেও পণ্য লোড করে দেয় না। এতে পুনরায় বাড়তি লোডিং খরচ হয়। তাতে খরচ বেশি হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। লোকসানের কারণে স্থলবন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন অনেক ব্যবসায়ী।
জানা যায়, ২০১৮ সালে রাতের আঁধারে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এটিআই নামক এই অখ্যাত কোম্পানিটিকে লেবার হ্যান্ডেলিং কাজের টেন্ডার দিয়েছিল। এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করলেও কোনো ফল আসেনি। কারণ এটিআইয়ের পেছনে রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ব্যবসায়ীদের মাঝে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ থাকলেও রহস্যজনক কারণে শক্ত অবস্থানে তাদের দেখা যায়নি। বছরের পর বছর এই সিন্ডিকেটকে ঠিকাদার নিয়োগ দিচ্ছে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা, সিএনএফ সদস্য ও কয়েকজন ব্যবসায়ী এ সিন্ডিকেটে যুক্ত ছিল। নতুন করে এ চক্রে যুক্ত হয়েছেন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তি।
বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি আকতারুল ইসলাম বলেন, আমদানিকারকদের কাছ থেকে লোড-আনলোডের টাকা নিয়ে নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে আমাদের আনলোড বাবদ ৪২-৪৩ টাকা দেওয়া হয়। লোড না করেও বাকি টাকা এটিআই ও বন্দর কর্তৃপক্ষ নেয়।
আমদানিকারক আলাউদ্দিন বাবু বলেন, লোড-আনলোডের টাকা নেয় কিন্তু কোন সেবা না দিয়ে কৌশলে প্রতিটনে ২৯-৩০ টাকা ফেরত দেয়। এছাড়াও বন্দরে পাথর লোড করতে পেলোডার গাড়ি না থাকায় সময় ও অর্থ বেশি লাগছে। এতে লোকসান হচ্ছে ব্যবসায়। অনেকে ব্যবসা গুছিয়ে চলে গেছেন। একই কথা বলছিলেন সাইদুর রহমানসহ অনেকে।
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর কতৃপক্ষের হিসাব মতে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে আমদানিকৃত পণ্যের পরিমান ১৫ লাখ ১৬ হাজার ১শত ৪০ মেট্রিক টন। আমদানিকৃত একটন পণ্য লোড বাবদ নেওয়া হয় ৭৬ টাকা ৮৩ পয়সা এবং আনলোড বাবদ নেওয়া হয় ৭৬ টাকা ৮৩ পয়সা, মোট ১৫৩ টাকা ৬৬ পয়সা নেওয়া হয়। সে হিসাবে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে লোড আনলোড বাবদ আমদানিকারকদের কাছ থেকে নেওয়া হয় ২৩ কোটি ২৯ লাখ ৭০ হাজার ৭২ টাকা।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য এটিআইর প্রোপাইটর রুহুল আমিন বাবুল হোসেনকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেডের ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা লোড করে দিতে চাই কিন্তু ব্যবসায়ীরা নেন না। গাড়ি আনে লোড করে নিতে তাদের খরচ বেশি হবে। লোডিং বাবদ আমদানিকারকদের ৩২ টাকা ফেরত দেওয়া হয়। তবে বাকি ৪৪ টাকা ৮৩ পয়সা কোথায় যায় তার হিসাব দিতে নারাজ এ কর্মকর্তা।