পিতৃপরিচয়ের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের আশ্বাসে প্রত্যাহার

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২২ পিএম

স্বামী ও সন্তানের বাবার স্বীকৃতির দাবিতে ভোলায় মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের কাচিয়া ইউনিয়নের বৈদ্যরপোল এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে পুলিশ আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন বিক্ষোভকারীরা।

অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পথচারীরা।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগী কিশোরী অভিযোগ করেন, শাহরিয়ার হোসেন মহিন নামে এক যুবকের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। প্রায় দেড় বছর আগে স্কুল থেকে ফেরার পথে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে বিয়ের আশ্বাস ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁকে একাধিকবার নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর মহিন বিয়ে না করে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগী কিশোরীর দাবি, তাঁর পাঁচ মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করা এবং নিজের স্বামীর অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে তিনি এলাকাবাসীর সহযোগিতায় এ কর্মসূচি পালন করেছেন।

কিশোরীর ভাই বলেন, বারবার আশ্বাস দেওয়ার পরও মহিনের পরিবার তাঁর বোনকে মেনে নেয়নি। পরে গত বছরের ডিসেম্বরে ভোলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়। মামলায় মহিন ও তাঁর মা আফরোজা বেগমকে আসামি করা হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আসামিরা সরকারি চাকরিজীবী ও প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা তুলে নিতে তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নিরাপত্তা চেয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী বলেন, ভুক্তভোগী কিশোরী ও তাঁর সন্তানের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ আলী বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। মামলা ও অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।’

ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাউসার বলেন, ‘অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পুলিশের পক্ষ থেকে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস পাওয়ার পর দুপুর ১টার দিকে বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক থেকে সরে যান। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত