ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রায়ই ঝোলে তালা, স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত 

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম

সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে, ভবন আছে, কিন্তু নিয়মিত সেবা নেই। কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার চিতড্ডা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, দিনের পর দিন কেন্দ্র বন্ধ পাওয়া যায় কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত সেবাদানকারীদের পাওয়া যায় না। মাঝে মধ্যে অফিস খুললেও থাকেন না দুই তিন ঘণ্টার বেশি। ফলে সাধারণ চিকিৎসাটুকুও নিতে পাশের ইউনিয়নের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ছুটতে হচ্ছে রোগীদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চিতড্ডা ইউনিয়নের মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি স্থাপন করা হলেও বাস্তবে নিয়মিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। কখনো সপ্তাহে এক-দুই দিন কেন্দ্র খোলা থাকে, আবার অনেক সময় বন্ধ থাকে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা চিকিৎসা না পেয়েই ফিরে যাচ্ছেন। 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ওয়াসিম বলেন, এই হাসপাতালের পাশেই আমার বাড়ি। হাসপাতাল করার উদ্দেশ্য মানুষের সেবা দেওয়া। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখান থেকে কেউ সেবা পায় না। প্রশ্ন করার মতো কাউকেও পাই না, হাসপাতাল খুলবে কি না, ডাক্তার আসবেন কি না। মাঝে মাঝে একজন ডাক্তার আসেন, কিছুক্ষণ থাকেন, আবার চলে যান। রোগীরা এসে বন্ধ দেখে এখন আর বেশি আসেন না। 

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাকিম বলেন, ওনাদের মন চাইলে সপ্তাহে এক দিন বা দুই দিন খোলা রাখেন। আবার মন চাইলে বন্ধ করে দেন। এভাবেই চলছে এই ক্লিনিক।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। তাদের কেউ লিখেছেন, যেদিনই আসি, সেদিনই দেখি বন্ধ। আবার কেউ জানিয়েছেন, চিতড্ডা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র বন্ধ পেয়ে পাশের ঝলম ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, নিজ ইউনিয়নে স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকার পরও সাধারণ চিকিৎসার জন্য অন্য ইউনিয়নে যেতে হচ্ছে তাদের। 

তবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিয়মিত না থাকার অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন চিতড্ডা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা নাজমা আক্তার। তিনি বলেন, আমি একজন বয়স্ক মানুষ। তারপরও সপ্তাহে তিন জায়গায় ডিউটি করতে হয়। সপ্তাহে দুই দিন আমি চিতড্ডায় থাকি। এক দিন স্যাটেলাইটে, আর বাকি দিন আড্ডা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করি। কয়েক ঘণ্টা অফিস করে চলে আসি, বিষয়টি সঠিক নয়। 

এ বিষয়ে বরুড়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রোকসানা আক্তার বলেন, আমাদের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে একেবারেই ওষুধ নেই বললেই চলে। তারপরও যা আছে, তা দিয়েই সেবা দেওয়া হচ্ছে। আমি যখনই ফোন দিই, তখন বলেন, ম্যাডাম অফিসে আছি। বাকিটা তো আর জানি না। তারপরও আমি এখন আবার ফোন দিয়ে বিষয়টি জানতে চাচ্ছি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, চিতড্ডা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের কার্যক্রম নিয়মিত পরিদর্শন, দায়িত্বপ্রাপ্তদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নিয়মিত খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হলে এলাকার মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন তারা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত