হৃদরোগের ঝুঁকি কমাবে যে খাবার

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২২ এএম

হার্ট অ্যাটাক সাধারণত হঠাৎ করে শুরু হলেও এর পেছনে থাকা প্রক্রিয়াটি অনেক বছর ধরে চলতে থাকে। উচ্চরক্তচাপ, LDL বা খারাপ কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়া, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন, ধূমপান, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ধীরে ধীরে রক্তনালির ক্ষতি করে। রক্তনালির দেয়ালে চর্বি ও কোলেস্টেরল জমে  atherosclerotic plaque তৈরি হতে পারে। কোনো সময় এই plaque ফেটে গিয়ে সেখানে রক্ত জমাট বাঁধলে রক্তনালি হঠাৎ বন্ধ হয়ে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

হৃদযন্ত্রের জন্য কী খাবেন?

 শাকসবজি খাওয়া বাড়াতে হবে  ফল খাবেন, জুস নয়  ডাল ও পূর্ণশস্য খাবার নিয়মিত রাখুন  মাছ খান  বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবার খেতে হবে।

যে খাবারগুলো কমাবেন

অতিরিক্ত লবণ, চর্বিযুক্ত লাল মাংস, অতিরিক্ত ঘি ও মাখন, বেশি তেলে ভাজা খাবার, ট্রান্স ফ্যাট, অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টি পানীয়, অতিরিক্ত প্যাকেটজাত ওultra processed খাবার। বিশেষ করে saturated fat & trans fot--এর অতিরিক্ত গ্রহণ LDL কোলেস্টেরল বাড়াতে পারে। তাই ঘি, মাখন বা চর্বিযুক্ত মাংস খাওয়া বাদ দিতে হবে।

খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি যা মানবেন

রক্তচাপ : নিয়মিত মাপুন এবং রক্তচাপ বেশি

থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কোলেস্টেরল : প্রয়োজন অনুযায়ী lipid profile পরীক্ষা করুন এবং LDL চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

ডায়াবেটিস : রক্তে  glucose & HbA1c নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

ওজন : অতিরিক্ত ওজন থাকলে ধীরে ধীরে কমানোর চেষ্টা করুন।

শারীরিক কার্যক্রম : নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়াম করুন এবং দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা কমান।

ধূমপান : হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে ধূমপান ত্যাগ করা গুরুত্বপূর্ণ।

হৃদরোগ প্রতিরোধের জন্য কোনো দামি সুপারফুড প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের খাবারেই বেশি শাকসবজি ও আস্ত ফল, নিয়মিত ডাল ও পূর্ণশস্য, পরিমাণমতো মাছ ও বাদাম; অন্যদিকে কম লবণ, কম ভাজাপোড়া, কম চিনি এবং কম  processed food এই সহজ পরিবর্তনই হতে পারে হৃদযন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা। তবে খাবার একা সব সমস্যার সমাধান নয়। রক্তচাপ, LDL কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, ওজন, ধূমপান ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা সবগুলো ঝুঁকির কারণ একসঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করাই হৃদরোগ প্রতিরোধের মূল কৌশল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত