অর্থায়ন কাটছাঁটে ঝুঁকিতে ৮৩ লাখ শরণার্থী

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৩ এএম

তহবিলের তীব্র ঘাটতির কারণে বিশ্বের প্রধান শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত সংকট এলাকায় সুরক্ষা ও সহায়তা কাঠামো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এর ফলে মূল কর্মসূচিগুলো সংকুচিত করতে বাধ্য হয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। যার কারণে নিরাপদে থাকার প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন লাখ লাখ মানুষ। গতকাল মঙ্গলবার ইউএনএইচসিআরের ‘সুরক্ষার অবক্ষয় : স্বল্প তহবিলের মানবিক মূল্য’ শীর্ষক এক নতুন প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটি জানায়, আর্থিক সাহায্যে দীর্ঘস্থায়ী ও ক্রমবর্ধমান ঘাটতির কারণে শরণার্থী, অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষ এবং রাষ্ট্রহীনদের সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা ক্রমশ কমে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৮৩ লাখ শরণার্থী, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ও রাষ্ট্রহীন মানুষ জীবন রক্ষাকারী জরুরি সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইউএনএইচসিআরের পাওয়া অর্থ ৫২০ কোটি ডলার থেকে কমে ৩৯০ কোটি ডলারে নেমেছে। আর ২০২৬ সালের জুলাইয়ের শেষ নাগাদ এ বছর প্রয়োজনীয় ৮৫০ কোটি ডলারের মাত্র ৩২ শতাংশ পেয়েছে ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটি বলছে, সাহায্যের অপেক্ষায় থাকা মানুষের সংখ্যা এখন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। সংস্থাটি আরও জানায়, তারা তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন সংস্কার ও অগ্রাধিকার নির্ধারণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু অর্থের এই ঘাটতি এতটাই বড় এবং দীর্ঘস্থায়ী যে, এখন তাদের জরুরি কাজগুলোও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ইউএনএইচসিআরের এক্সটারনাল রিলেশনস প্রধান ডমিনিক হাইড বলেন, ‘সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ের নিচে নামলে তা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। তখন শুধু যে কম মানুষ সেবা পায় তা নয়, বরং সেবামূলক কার্যক্রমগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষগুলো তাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে।’ ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ। এর মধ্যে ৩ কোটি ৫৬ লাখ শরণার্থী সরাসরি ইউএনএইচসিআরের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এই শরণার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশই মূলত ভেনেজুয়েলা, ইউক্রেন, সিরিয়া, আফগানিস্তান ও সুদানের নাগরিক।

এদিকে অর্থায়ন সংকুচিত হওয়ায় বাধ্য হয়ে ২০২৫ সালে ইউএনএইচসিআর প্রায় পাঁচ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে, যা তাদের মোট জনবলের এক-চতুর্থাংশের বেশি। বিশ্বের প্রধান দাতা দেশ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র তাদের বৈদেশিক সহায়তা ব্যাপক হারে কমিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য বড় দাতা দেশগুলোও তাদের সাহায্য কমাতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউএনএইচসিআর দাতা ও অংশীদারদের এখনই জরুরি সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি ইতিমধ্যে অর্জিত অগ্রগতি সুরক্ষিত রাখা, বাস্তুচ্যুত মানুষকে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে সহায়তা করা এবং তাদের নতুন করে জীবন গড়ার সুযোগ দিতে নমনীয় অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত