চাঁপাইনবাবগঞ্জ আমার জন্মভূমি। আমার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর গ্রামে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সুস্বাদু ফল আর সীমান্তের অনন্য পরিবেশের জন্য এই জেলা সবার কাছে পরিচিত। চাঁপাইনবাবগঞ্জকে সবাই আমের রাজ্য নামে চেনে। এখানে গোপালভোগ, খিরসাপাত, ল্যাংড়া, ফজলি ও আশ্বিনার মতো বিখ্যাত আম পাওয়া যায়। আম ছাড়াও লিচু, কাঁঠাল, পেয়ারা ও নানা মৌসুমি ফলের সমারোহ এ জেলার সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে। বাংলাদেশের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত এই জেলার পরেই ভারতের সীমান্ত, যা ভ্রমণকে অন্যরকম অনুভূতি দেয়। ফাইনাল প্রফ পরীক্ষা শেষ করে আমি চাঁপাইনবাবগঞ্জ চলে গেলাম।
গোমস্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার সুযোগ আমার হয়েছে। এর মধ্যে রামদাস বিল ছিল অন্যতম। বর্ষাকালে বিলটি পানিতে ভরে যায়, আর চারপাশে সবুজ প্রকৃতি এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য সৃষ্টি করে। এখানে অনেক প্রজাতির পাখি দেখা যায় এবং সকালের নির্মল পরিবেশ মনকে প্রশান্ত করে দেয়। এখানকার আরেকটি আকর্ষণীয় স্থান হলো আলপনা গ্রাম, যা মূলত সাঁওতালদের গ্রাম নামেই পরিচিত। এই গ্রামের মাটির ঘরগুলো রঙিন আলপনায় আঁকা। যা গ্রামের নামের সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে যায়। সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, পোশাক, নাচ-গান এবং অতিথিপরায়ণতা এই গ্রামকে বিশেষ পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এখানকার পরিবেশে গ্রামের মানুষের সহজ-সরল জীবনের ছবি খুঁজে পাওয়া যায়।
এর আগেও আমি ভোলাহাট এলাকাও ঘুরে দেখেছি। সীমান্তঘেঁষা শান্ত ও সবুজ এলাকা। তবে বর্ষা মৌসুমের কারণে আমবাগান, বিস্তীর্ণ মাঠ এবং গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশ যেন আরও সবুজ। যেকোনো ভ্রমণকারীকে মুগ্ধ করবে। ভোলাহাটের এলাকা ঘুরে ঘুরে একসময় বজরাটেক গিয়ে পৌঁছালাম। যেখানটা হলো বাংলাদেশের শেষ সীমান্ত। এই পাশে বাংলাদেশ মাঝখানে মহানন্দা নদীর বয়ে চলা। আর অপর পাশে ভারত। কী সুন্দর বাতাস বয়ে চলছে। অনেকটা সময় নদীর পাশে কাটিয়ে দিলাম। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শুধু ফলের জন্য নয়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্য এবং সহজ সরল মানুষের আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। নিজের জেলার এসব মনোমুগ্ধকর জায়গা ঘুরে একরাশ আনন্দ নিয়ে ফিরে এলাম। সুযোগ পেলে সবাইকে একবার হলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমার জেলায় ভ্রমণ করার আমন্ত্রণ রইল।