শেখ ইসতিয়াক

সুরের পাখি চলে গেছে আকাশে

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৪ এএম

১৯৮৬ সালে তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘নন্দিতা’ প্রকাশ হওয়ার পর পরই সংগীতপাড়ায় বিপ্লব ঘটে। অ্যালবামের ‘নীলাঞ্জনা’ গানটি রাতারাতি অভাবনীয় জনপ্রিয়তা লাভ করে। সেই গান এখনো শ্রোতাদের মুখে মুখে

বাংলা সংগীতের সোনালি অধ্যায়ে যে ক’জন শিল্পী কণ্ঠের জাদু আর মেলোডির দ্যুতি ছড়িয়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গেড়েছেন, তাদের অন্যতম শেখ ইসতিয়াক। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে তার গানের সুর ছড়িয়ে পড়েছিল কোটি শ্রোতার মনে। তিনি ছিলেন বাংলা আধুনিক ও ব্যান্ড সংগীতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ১৯৯৯ সালের আজকের দিনে (৩০ সেপ্টেম্বর) এই গুণী সুরস্রষ্টা ও শিল্পী অকালে আমাদের ছেড়ে চলে যান। মৃত্যুবার্ষিকীতে এই প্রতিভাবান সংগীতশিল্পীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

১৯৬০ সালের ২৩ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন শেখ ইসতিয়াক। শৈশব থেকেই সুর ও তালের প্রতি তার ছিল এক সহজাত আকর্ষণ। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ১৯৭৪ সালে গড়ে তোলেন নিজ ব্যান্ড ‘সন্ন্যাসী’। সংগীতে তার দক্ষতা আর প্রখর মাত্রাজ্ঞানকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে যান কালজয়ী সুরস্রষ্টা লাকী আখন্দ। লাকী আখন্দ ও হ্যাপি আখন্দের সান্নিধ্যে এসে গিটারে তিনি অনন্য পারদর্শিতা অর্জন করেন। লাকী আখন্দ তাকে হ্যাপি আখন্দ ও নিলয় দাসের পাশাপাশি দেশসেরা গিটারিস্টদের একজন মনে করতেন। সংগীতে আত্মনিবেদনের পাশাপাশি পারিবারিক জীবনেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সংবেদনশীল। তার মেজ ভাই ডা. ইমরান আহমেদ ছিলেন একজন চিকিৎসক, যিনি ইতিমধ্যে প্রয়াত হয়েছেন। তার দুই বোন আয়ারল্যান্ড প্রবাসী। বড় বোন ড. জাকিয়া রহমান খ্যাতনামা বিজ্ঞানী ও কবি এবং ছোট বোন একজন ফ্যাশন ডিজাইনার। তার সহধর্মিণী পুনম প্রিয়াম ও শেখ ইসতিয়াকের পরিবারে রয়েছে এক কন্যাসন্তান সিমন ইসতিয়াক।

১৯৮৬ সালে তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘নন্দিতা’ প্রকাশিত হওয়ার পর পরই সংগীতপাড়ায় বিপ্লব ঘটে। অ্যালবামের ‘নীলাঞ্জনা’ গানটি রাতারাতি অভাবনীয় জনপ্রিয়তা লাভ করে। সেই গান এখনো শ্রোতাদের মুখে মুখে। অ্যালবামের প্রায় প্রতিটি গানই নিজের সুর ও সৃষ্টিশীলতার স্বাক্ষর বহন করে। ‘আমার মনের ফুলদানিতে’ কিংবা ‘নন্দিতা’, তার সুর ও কণ্ঠ হৃদয় ছুঁয়ে যায় শ্রোতার। রাতারাতি তিনি পেয়ে যান বাংলা আধুনিক গানের মেলোডি কিং খেতাব।

সংগীতই ছিল তার প্রাণ। হৃদরোগে আক্রান্ত হলেও যখন চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের বিনিময়ে গান ছেড়ে দেওয়ার শর্ত দিয়েছিলেন, তখন গানের মায়ায় তিনি সেই অস্ত্রোপচারের পথ এড়িয়ে বেছে নিয়েছিলেন সুরের পথকেই।

সব বাঁধন ছিঁড়ে মাত্র ৩৯ বছর বয়সে সুরের পাখি ডানা মেলে উড়ে যায় আকাশে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নিভে যায় তার জীবনপ্রদীপ। বাংলা সংগীত একজন প্রকৃত ‘মেলোডি কিং’কে হারালেও তার সুর ও কণ্ঠ বেজে ওঠে সংগীতপ্রেমীর হৃদয়ে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত