বারবার মেয়াদ-ব্যয় বাড়ানো নিয়ে অসন্তোষ প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৩ এএম

যৌক্তিক কারণ ছাড়া ব্যয় ও বারবার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে এমন আটটি প্রকল্পের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভাশেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। এতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এদিন একনেকে ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ১১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৫ হাজার ২৬২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে নতুন প্রকল্প রয়েছে আটটি, সংশোধিত প্রকল্প তিনটি এবং মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প রয়েছে দুটি।

এর আগে গত ৯ জুন একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বারবার বাড়ানোর প্রবণতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রকল্পের মেয়াদ কেন বারবার বাড়ানো হচ্ছে, এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার নির্দেশ দেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) অধীনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসব প্রকল্পের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, যৌক্তিক কারণ ছাড়া ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে এমন আটটি প্রকল্পের বিষয়ে আইএমইডি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। আরও তিন-চারটি প্রকল্পের প্রতিবেদন দ্রুত জমা দেওয়া হবে। এসব প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বর্তমান মেয়াদে নেওয়া প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময় ও বাজেটের মধ্যে শেষ করা।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের কাজ এক শতাংশেরও কম বাকি থাকার পরও ফের মেয়াদ ও সময় বাড়ানো নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এসএম শাকিল আখতার বলেন, টার্মিনাল চালুর জন্য ইন্টারনেট সুবিধা, ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা, হাইস্পিড ইন্টারনেটসহ কিছু প্রয়োজনীয় বিষয় যুক্ত করতে হয়েছে। প্রয়োজনীয় কিছু কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পটি শেষবারের মতো সংশোধন করে জুন ২০২৭ পর্যন্ত মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।

একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টিগ্রেটেড হেলথ সিস্টেম রেসপন্স টু ফাইট অ্যাগেইনস্ট টিবি, এইচআইভি/এইডস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া ইন বাংলাদেশ প্রকল্প’; ‘পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন, পটুয়াখালী (১ম সংশোধিত) প্রকল্প’; ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২ (এফএসএসপি-২)’; ‘চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণকেন্দ্রের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠান রৌফাবাদ, চট্টগ্রামে হোস্টেল ভবন সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা’ প্রকল্প; ‘মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী এবং বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন (অংশ-১) প্রকল্প’; ‘মেঘনা নদীর ভাঙন হতে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলাধীন শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষা প্রকল্প’; ‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপের মাধ্যমে ৩টি সিটি করপোরেশন, একটি পৌরসভা এবং দুটি গ্রামীণ উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি স্থাপন প্রকল্প (২য় সংশোধিত)’; ‘রংপুর বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প’; ‘মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (৩য় সংশোধন)’; ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প (১ম পর্যায়) (৩য় সংশোধন)’; ‘র‌্যাব (এসআরবি)-এর কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ (২য় সংশোধিত)’; ‘ফেনী জেলার সোনাগাজীতে সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্প’ এবং ‘তিনটি পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্প।

সভায় ইতিমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত ১৫টি প্রকল্প সম্পর্কেও অবহিত করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। প্রকল্পগুলো হলো বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নির্ঝর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ৩ তলা ভবনের ওপর ৪র্থ, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলার ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ; কুর্মিটোলার বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষাদান সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অবকাঠামো নির্মাণ; আলীকদম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন; ঢাকা মহানগরী ও পূর্বাচলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ দৃষ্টিনন্দনকর; ১০ জেলায় বিএসটিআইয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন; রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প; মিরপুর ইউসেপ-শ্রম ও কর্মসংস্থান ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন; ক্লাইমেট-স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প; কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলাধীন ধরলা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণসহ বাম ও ডানতীর সংরক্ষণ; হবিগঞ্জ জেলার বিবিয়ানা বিদ্যুৎকেন্দ্রসমূহের সম্মুখে কুশিয়ারা নদীর উভয় তীরের প্রতিরক্ষা; ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সড়ক উন্নয়ন ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্কসহ নাগরিক সেবা উন্নতকরণ; সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প; বাংলাদেশের ২৩টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প; ভুয়াপুর-তারাকান্দি জেলা মহাসড়ক মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় ভূপৃষ্ঠস্থ পানি পরিশোধনপূর্বক পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ ও নিরাপদ স্যানিটেশন প্রকল্প।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত