শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ৩ শিক্ষকের পদাবনতি

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২১ পিএম

যৌন হয়রানির অভিযোগে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) তিন শিক্ষককে পদাবনতি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিন্ডিকেট সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রশীদুল ইসলামকে অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শামীম হোসেনকে সহকারী অধ্যাপক থেকে প্রভাষক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শাকিবুল ইসলামকে সহযোগী অধ্যাপক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে অবনমন করা হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ১৯ এপ্রিল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে অধ্যাপক ড. মো. রশীদুল ইসলাম ও এক ছাত্রীর মেসেঞ্জারে কথোপকথনের কয়েকটি স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী নিজের পরিচয় গোপন রেখে স্ক্রিনশটগুলো প্রকাশ করেন।

পরে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গ্রুপে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত একটি স্ট্যাটাস দেন ওই ছাত্রী। পরবর্তীতে ওই স্ট্যাটাস ও স্ক্রিনশট বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার পর অধ্যাপক রশীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও জমা পড়ে।

এ ছাড়া গত বছরের ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক রশীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে পরীক্ষার খাতায় নম্বর টেম্পারিং ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ওই ছাত্রী।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে ৩১ পৃষ্ঠার লিখিত যৌন হয়রানির অভিযোগ জমা দেন একই বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তীতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সিন্ডিকেট সভায় তিন শিক্ষককে পদাবনতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপের সূচনা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, অনেক শিক্ষার্থী এ ধরনের শিক্ষকদের ভয়ে অভিযোগ বা প্রতিবাদ করতে সাহস করতেন না।

তবে অভিযোগের তুলনায় শাস্তি কম হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন একাধিক শিক্ষার্থী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিসংখ্যান বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, শুধু পদাবনতি করায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের সাহস আরও বেড়ে যেতে পারে। এতে শিক্ষার্থীরা নতুন করে হুমকি ও যৌন হয়রানির মতো ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যৌন হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে শুধু পদাবনতি যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত তিন শিক্ষকের মধ্যে দুজনকে সাময়িক বহিষ্কার করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৯তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সাময়িক বহিষ্কৃত দুই শিক্ষক হলেন—ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর মো. শামীম হোসেন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শাকিবুল ইসলাম।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত