গণপরিবহনে চরম বিশৃঙ্খলা বেড়েছে দুর্ঘটনা ও অপরাধ

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম

তখন বেলা ১১টা। রাজধানীর মৌচাক মোড়। ফরচুন শপিং মলের পাশটায় দাঁড়ানো কর্তব্যরত ট্রাফিকের মুখে বাঁশি, দুই হাত উঁচিয়ে থেমে থাকার ইঙ্গিত পেছনে ও সামনে। উদ্দেশ্য, তার সামনের দিকে ডানে অপেক্ষমাণ গাড়িগুলোকে মগবাজার ও মালিবাগ রেলগেটের দিকে পার হয়ে যাওয়ার জন্য সবুজ সংকেত দেবেন। দিলেনও তাই। এরই মাঝে পেছনে বামদিক থেকে উল্টো এগিয়ে গেছে একটি ব্যাটারিচালিত অটো রিকশা। ওই অটোর পেছনে এগিয়েছে আরও তিনটি। এদিকে, সামান্য ফাঁক পেয়ে সামনে বামদিক থেকেও অপেক্ষমাণ অটোর আরও কয়েকটি এগিয়েছে। একই সময়ে সুযোগ বুঝে রেলগেটের দিকে পার হয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে মৌচাক মার্কেটের সামনে থেকে উল্টো ঢুুকে গেছে ২টি। ফলাফল, মাঝখানটায় মুখোমুখি বাস, প্রাইভেটকার, অ্যাম্বুলেন্সসহ সারি সারি অটো। মাঝে আটকা পড়েছে এক স্কুলছাত্রী ও তার মা। অসহায় দাঁড়িয়ে ট্রাফিক! কয়েক যাত্রী ও পথচারীর সহায়তায় অন্তত ১৫ মিনিটের প্রচেষ্টায় ওই জটলা ছাড়াতে সক্ষম হন তিনি। এরপর স্বাভাবিক হয় ওই চৌরাস্তার যানবাহন চলাচল। ঘটনাটি তিন দিন আগের হলেও এটাকে শুধু একদিনের ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রায় প্রতিটি মোড়ের প্রতিদিনেরই চিত্র।

শুধু রাজধানী নয়, এমন ঘটনা বিস্তৃত হয়েছে সারা দেশে। ব্যাটারিচালিত অটোচালকরা বেপরোয়া। ট্রফিক নিয়মনীতি ও বিধিনিষেধ সম্পর্কে তাদের নেই কোনো জ্ঞান। বিধিনিষেধ শেখা ও মেনে চলার কোনো আগ্রহও নেই তাদের মধ্যে। এইসব অটোর কারণে সড়কে নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে আশঙ্কাজনকহারে। একইসঙ্গে অটোচালকদের অনেকে মাদক, ছিনতাই-ডাকাতির মতো অপরাধের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছে। দিনরাত এই অটোর বিচরণ শহরে, নগর, বন্দর এমনকি গ্রামে-গঞ্জেও। অন্যদিকে মাদকাসক্তরাও এই অটো ছিনতাই করে। এ ধরনের অপরাধে অটোচালককে হত্যার বেশ কিছু ঘটনাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রকাশ করেছে।

সড়কে দুর্ঘটনা, নিহত ও আহতের সংখ্যা ও ধরন বিশ্লেষণ করে নিরাপদ সড়ক চাই-এর মহাসচিব লিটন এরশাদ দেশ রূপান্তরকে জানান, ঢাকার বাইরে ব্যাটারিচালিত অটোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪৯ শতাংশ। তিনি বলেন, ‘এই তথ্য বলছে, অটোর কারণে সড়কে নিরাপত্তাহীনতার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মোট দুর্ঘটনার প্রায় অর্ধেক ঘটছে অটোর কারণে। দেশে মোট দুর্ঘটনার সংখ্যাও বাড়িয়ে দিয়েছে এই অটো।’

লিটন এরশাদ বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত অটো কোনো গণপরিবহন হতে পারে না। এর সারা গায়ে লোহা। একেক রকম আকার-আকৃতি। গায়ে লাগুক বা অন্য কোনো ধাতব বস্তুতে; এর আঘাত ক্ষত তৈরি করে। এর গতি নিয়ন্ত্রণযোগ্য নয়। ব্রেকও কাজ করে না। তিনি জানান, নিরাপদ সড়ক চাই শুরু থেকেই ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা-মিশুক ইত্যাদির বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি এবং নিয়ন্ত্রণে সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে।

রামপুরার বাসিন্দা ব্যাংকার প্রশান্ত বণিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার প্রাইভেটকারে দুবার এই অটো ধাক্কা দিয়েছে। এতে কারের বডিতে গভীর ক্ষত তৈরি হয়। আমি ত ক্ষতিপূরণ চাইতে পারি না। পথচারীরা আওয়াজ তোলে ‘গরিব অটোচালক। মাফ করে দেন।’ কিন্ত দিনশেষে আমার গাড়িটা মেরামত করতে তো অনেক টাকা খরচ হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রায়ই দেখি অটো গতি সামলাতে না পেরে স্পিডব্রেকারে ধাক্কা খেয়ে যাত্রীসহ পড়ে যায়। এই অটোতে যাত্রী কি নিরাপদ?

অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এআরআই) এর তথ্য অনুযায়ী অটোতে দুর্ঘটনার কারণ মোট দুর্ঘটনার ৩৩ শতাংশের মতো। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৫ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৭ হাজার ৫৮৪টি। নিহত হয়েছে ৭ হাজার ৩৫৯ জন এবং আহত ১৬ হাজার ৪৭৬ জন। এর মধ্যে থ্রি-হুইলারের যাত্রী রয়েছে ১ হাজার ৩৭৬ জন বা ১৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) জানায়, ব্যাটারিতে উৎপন্ন বিদ্যুৎচালিত অটোতে দুর্ঘটনায় নিহতের অনুপাত ২০২৩ সালে ২০.৫২ শতাংশ, ২০২৪ সালে ২১.০১ শতাংশ এবং ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত ছিল ১৯.৭৫ শতাংশ। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হিসাবে ২০২৩ সালের জানুয়ারি-অক্টোবর সময়ে ব্যাটারিচালিত অটো-সংশ্লিষ্ট ৯০০টি দুর্ঘটনা ঘটে, যার ৫৮২টি গুরুতর।

ঢাকা মহানগরীতে অটোর কারণে সংঘটিত দুর্ঘটনা, নিহত ও আহত কিংবা অটোচালকদের অপরাধপ্রবণতা বিশেষ করে ছিনতাই নিয়ে কোনো পরিসংখ্যান নেই ডিএমপি-তে। ডিএমপি (ট্রাফিক) ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মিনা মাহমুদা বলেন, এমন তথ্য আলাদা করে সংরক্ষণ করা হয় বলে আমার জানা নেই। তিনি বলেন, সার্বিক অপরাধের হিসাব নিয়ে আমাদের প্রতিবেদন হয়।

হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ছালেহউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এসব অটোর ফিটনেস নেই। সম্পূর্ণ অবৈধভাবে চলে। উচ্চ আদালত অনেক আগেই এই যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, এসব অটো সড়ক-মহাসড়কে দূরপাল্লার বড় পরিবহন চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি করে। ফলে দুর্ঘটনা ঘটে। এই অটো অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ।

অটোচালকদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা-সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অপরাধীদের অনেকেই ছদ্মবেশ নিতে অটো চালায়। হয়তো নিজ এলাকায় মামলার আসামি এবং গ্রেপ্তার এড়াতে শহর-নগর ও বন্দরে গিয়ে পরিচয় গোপন করে অটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। নতুন এলাকায় আবারও অপরাধে জড়ায়। এমন ঘটনায় গ্রেপ্তারের উদাহরণ আছে। একইভাবে যাত্রীসেজে অটো ছিনতাই এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অটোচালককে হত্যার অনেক ঘটনাও পুলিশের রেকর্ডে রয়েছে।

এদিকে লিটন এরশাদ জানান, আসছে ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালন করা হবে। এ উপলক্ষে সরকার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। ২০১৭ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এ উপলক্ষে সড়ক সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করতে র‌্যালি, আলোচনা সভা, লিফলেট বিতরণ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।

তিনি জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত স্টেকহোল্ডার (অংশীজন) সভায় মন্ত্রীর উপস্থিতিতে ব্যাটারিযুক্ত অটো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মূল সড়কে উঠতে অটোর ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মেনে চলছে না অটোচালকরা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সভায় অংশগ্রহণকারীদের অনেকে।

উল্লেখ্য, সারা দেশে সাড়ে ৪ লাখ কিমি সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ২২ হাজার কিমি সড়ক, মহাসড়ক, সেতু ও এক্সপ্রেসওয়ে সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে। অবশিষ্ট পুরো সড়ক স্থানীয় সরকার কর্র্তৃপক্ষের অধীনে।

গণপরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আইন ও নীতিমালা : সংশ্লিষ্ট পৃথক সূত্র জানায়, গণপরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে ২টি পৃথক আইন ও নীতিমালা প্রণীত হচ্ছে। এর একটি হলো সড়ক নিরাপত্তা আইন। এটি প্রস্তুত করছে সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন অংশীজনের সহযোগিতা ও মতামত নেওয়া হয়েছে। অপর একটি নীতিমালা হচ্ছে ব্যাটারিযুক্ত অটো নিয়ে। অংশীজনদের মতামত নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এটি প্রণয়ন করছে। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ইতিমধ্যে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করে বক্তব্যও দিয়েছেন।

নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইনে যাত্রী আরও বেশি সুরক্ষা পাবেন বলে সূত্র জানায়। যানবাহন চালকদের বেপরোয়া আচরণ বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে ওই আইনে। এ ছাড়া অটো-সম্পর্কিত নীতিমালায় ব্যাটারিচালিত অটোর চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। সব সড়কে চলতে দেওয়া হবে না এই অটো।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও জাতিসংঘের চোখে বাংলাদেশের এই অটো : রেস্ট অব ওয়ার্ল্ড নামে একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে বলেছে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে চালকের প্রশিক্ষণ, গতি, ব্রেকিং ব্যবস্থা, গাড়ির কাঠামো, রাস্তার ধরন, অন্য যানবাহনের আচরণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসবই ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে নিম্নমানের ব্যাটারিচালিত অটো বিপজ্জনক।

রয়টার্স ২০২৫ সালের ঢাকার ট্রাভেল গাইড নামে এক প্রতিবেদনে এ ধরনের অটোকে স্থানীয়ভাবে ’দেশি টেসলা’ নামে পরিচিত বলে উল্লেখ করে এগুলো দ্রুতগতির এবং ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে। জাতিসংঘের ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্স ২০২৪-এর গবেষণায় বলেছে, ২০২২ সালে বাংলাদেশে আনুমানিক ৪০ লাখ ব্যাটারিচালিত অটো ছিল। এগুলোর চার্জিংয়ের জন্য বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয় এবং লিড অ্যাসিড ব্যাটারি ব্যবহারের কারণে বর্জ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকিও তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞ কী বলেন? : অর্থনীতি ও শ্রমবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, একটি ব্যাটারিচালিত অটো শুধু একজন চালকের কর্মসংস্থান তৈরি করে না। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে মালিক, চালক, ব্যাটারি বিক্রেতা, চার্জিং ব্যবসা, মেকানিক, যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী, অটোবিক্রেতা এবং স্থানীয়ভাবে সংশ্লিষ্ট আরও বহু মানুষ। রাষ্ট্র হতে হবে সবার। আর এটা নিশ্চিত করার দায় সরকারের।

তিনি বলেন, নীতিমালা না থাকায় অটোচালকরা যেমন বেপরোয়া তেমনি যখন তখন পুলিশ অটো ধরে থানায় নিয়ে গেলে মানবিক সংকটও তৈরি হয়।

তিনি বলেন, থানার সামনে দেখা যায় আটককৃত অটোর স্তূপ। যে ব্যক্তি একলাখ টাকা ঋণ নিয়ে অটো কিনেছেন, তার জন্য এটি একটি ব্যবসায়িক সম্পদ। কিন্তু রাষ্ট্র যদি কোনো এলাকায় এর চলাচল সীমিত করে, তাহলে সেই সম্পদ অব্যবহৃত থাকার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর অপ্রত্যাশিত আর্থিক চাপ তৈরি হয়। যে অটোকে পরিবারটি জীবিকার নিরাপত্তা মনে করা হচ্ছে, সেটিই কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের আর্থিক ঝুঁকির কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।

আনু মুহাম্মদ বলেন, সরকারকে ঝুঁকি ও সম্ভাবনা দুটিই চিহ্নিত করে একটি সর্বজনীন গ্রহণযোগ্য নীতিমালা করতে হবে।

নিরাপদ সড়ক চাইআন্দোলনের লিটন এরশাদ এই প্রেক্ষাপটে বলেন, শুধু কর্মসংস্থান ও সহজে আয়ের মানবিক কারণটুকু বিবেচনায় নিলে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো যাবে না। তিনি বলেন, এর আগেও পরিবেশ দূষণরোধে ডিজেলচালিত থ্রি-হুইলার রাজধানী ও নগর-মহানগর থেকে তুলে দিতে সরকারকে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। তখনো মানবিক ইস্যুর কথা উঠেছিল। কিন্ত শেষ পর্যন্ত বৃহত্তর স্বার্থ জয়ী হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে সরকারনিয়ন্ত্রিত একটি পাইলট প্রকল্প শুরু করেছে, যেখানে বুয়েট এর তৈরি নির্দিষ্ট নকশা, প্রশিক্ষিত চালক এবং জিওফেন্সিং ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ নীতিগত অবস্থান এখন শুধু ‘বন্ধ করা’ নয়, অটো চলাচলের পরিধি নিয়ন্ত্রিত করে বরং নিরাপদ গণপরিবহন মডেলে রূপান্তরের দিকেও যাচ্ছে সরকার।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত