মধ্যপ্রাচ্যে দুই হাজার নতুন মার্কিন সেনা মোতায়েন

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৭ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন এক কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ইরানকে ঘিরে তিনটি বিমানবাহী রণতরী ও দুটি উভচর হামলা-অভিযানকারী বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্টের নেতৃত্বাধীন স্ট্রাইক গ্রুপ এবং মাকিন আইল্যান্ডভিত্তিক বাহিনী সান দিয়েগো ছেড়ে গেছে। মাকিন আইল্যান্ড বাহিনীতে প্রায় ২ হাজার মার্কিন মেরিন সেনা রয়েছে। খবর আল জাজিরা এবং সিএনবিসি। 

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পুরো প্রক্রিয়া নভেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। সংবাদপত্রটির দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি তাঁর সহযোগীদের বলেছেন, তিনি একই মাসে ইরানে আবারও বোমা হামলা শুরুর প্রত্যাশা করছেন।

এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে একটি বিশাল তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত কোনো অস্ত্রের আঘাতে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, প্রায় ২৫ লাখ ব্যারেল তেল বহন করতে সক্ষম একটি সুপারট্যাংকার বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে আগুন ধরে গেলেও জাহাজের সব ক্রু নিরাপদে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে, চলমান যুদ্ধ অষ্টম মাসে পড়লেও পরিস্থিতি এখনও অচলাবস্থায় রয়েছে। যুদ্ধ বন্ধে পরোক্ষ আলোচনাও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের এমন একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে, যেখানে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়ার বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এর ফলে যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় তেলের দাম এখনও বেশি রয়েছে।

অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেনি জোট বৃহস্পতিবার ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে মদিনার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার অভিযোগ করেছে। ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মদিনার মসজিদে নববীকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও এখনও কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। কাতারের মধ্যস্থতায় চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পরোক্ষ আলোচনা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে নির্ধারিত সময়ের আগেই নিউইয়র্ক ছেড়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসের মধ্যেই এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত