১৫তম দিনেও অচল চুয়েট, এবার নগরে সোচ্চার শিক্ষার্থীরা

শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধের সর্বাত্মক শাটডাউন অব্যাহত থাকবে।

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য পদে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এই দাবি জানানো হয়।

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলনের ১৫তম দিনে প্রথমবারের মতো ক্যাম্পাসের বাইরে মহানগরে কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে সকাল থেকে অন্যান্য দিনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক শাটডাউন কর্মসূচি পালিত হয়। বেলা ১১ টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত  কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

বিকাল সাড়ে তিনটায় শুরু হওয়া মানববন্ধনে বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এসময় তারা ভিসি কে ভিসি কে, সায়েম স্যার ছাড়া আর কে? টনক তুমি নড়বে কবে, চুয়েট সচলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইসহ বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধের সর্বাত্মক শাটডাউন অব্যাহত থাকবে। তবে জরুরি সেবা, মেডিকেল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা এই শাটডাউনের আওতামুক্ত থাকবে।

মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘গত ২১ সেপ্টেম্বর কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এই ব্যাখ্যাহীন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সর্বাত্মক শাটডাউন ও গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন।’

শিক্ষার্থীরা জানান, ‘এই আন্দোলন কেবল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও উপাচার্যের পুনর্বহালের দাবিতে কর্মবিরতি, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন।’

মানববন্ধনে বলা হয়, অধ্যাপক সায়েম তার মাত্র ৫৬ দিনের স্বল্প মেয়াদে চুয়েটের শিক্ষা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও গবেষণায় নানামুখী ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তিনি ‘ইন্টারন্যাশনাল কলাবোরেশন অফিস’ স্থাপন, ‘রিসার্চ হাব’ ও ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ তৈরি এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের শিল্পকারখানাগুলোর সঙ্গে যৌথ গবেষণার উদ্যোগ নেন। কোনো কারণ ছাড়া তার এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা ভেঙে দেওয়া চুয়েটের সার্বিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

শিক্ষার্থীরা জোর দিয়ে বলেন, তারা কোনো দল বা ব্যক্তির স্বার্থে আন্দোলনে নামেননি; বরং একটি যৌক্তিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়, ‌‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে এগোচ্ছেন। দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় অচল থাকা দেশের অগ্রযাত্রার পক্ষে অনুকূল নয়। চুয়েটের স্বাভাবিক শিক্ষাপরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং সায়েম স্যারকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করতে আপনার দ্রুত ও দায়িত্বশীল হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত