অডিট চলাকালে গ্রামীণ ব্যাংক ব্যবস্থাপকের মৃত্যু

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের নিমগাছি এলাকার গ্রামীণ ব্যাংক শাখায় অডিট চলাকালে ওই শাখার ব্যবস্থাপক মো. আব্দুস সালাম (৫০) গ্যাস ট্যাবলেট নামের কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর অডিট কমিটির তিন সদস্যকে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তবে তাঁদের এখনও গ্রেপ্তার বা আটক দেখানো হয়নি।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিমগাছি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৯টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুস সালামের মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুস সালাম দীর্ঘদিন ধরে নিমগাছি গ্রামীণ ব্যাংক শাখায় ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর বাড়ি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায়। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তিনি নিমগাছি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

সহকর্মী ও স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিন ধরে ওই শাখা কার্যালয়ে অডিট কার্যক্রম চলছিল। এ সময় আব্দুস সালামকে হতাশাগ্রস্ত দেখা যায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে তিনি দুটি গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে সহকর্মীরা জানান। পরে পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা তাঁকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

গ্রামীণ ব্যাংকের নিমগাছি শাখার কর্মী শফিকুল ইসলাম বলেন, অডিট চলাকালে আব্দুস সালামকে হতাশাগ্রস্ত মনে হচ্ছিল। এ বিষয়ে আব্দুস সালাম তাঁকে বলেছিলেন, ‘আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম কিন্তু আমাকে বাঁচতে দেওয়া হলো না। আমি মারা যাব।’ এর কিছুক্ষণ পর তিনি গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানান শফিকুল।

শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ঘটনার পর অডিট কমিটির সদস্যদের বিক্ষুব্ধ জনতা ও ব্যাংকের কর্মীরা অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে রায়গঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অডিট কমিটির তিন সদস্যকে থানা হেফাজতে নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে অডিটের চাপের কারণেই আব্দুস সালাম আত্মহত্যা করেছেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁর পরিবার বা ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে এখনও কোনো অভিযোগ বা মামলা করা হয়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জনরোষ থেকে অডিট কমিটির তিন সদস্যকে থানা হেফাজতে নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। তাঁরা এখনও থানা হেফাজতেই আছেন। তাঁদের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বগুড়া হাসপাতালে নিহতের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত