ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ নিয়ে টনক নড়েছে বিসিবির

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম

মাত্র ১০-১৫ মিনিটের বৃষ্টিতে পানি জমে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে। বন্ধ হয়ে যায় ক্রিকেট ম্যাচ। অস্থায়ী তাঁবুর ড্রেসিংরুমেও ঢুকে পড়ে পানি, ভিজে যায় ক্রিকেটারদের ব্যাট-প্যাড-কিটস। এই মাঠ ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। অথচ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মাঠ উন্নয়নের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদকে (ডাকসু) ২ কোটি টাকা দেয় বিসিবি। এর বিনিময়ে ক্রিকেট মৌসুমে বছরে ১০০ দিন মাঠ ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল। এসব অনিয়ম নিয়ে দৈনিক দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রচারের পর নড়েচড়ে বসেছে ক্রিকেট বোর্ড। 

বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে বিসিবির মাঠ ব্যবস্থাপনা কমিটি। এনিয়ে ক্রিকেট বোর্ডের অন্যতম পরিচালক ও টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর আজ একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'এটা নিয়ে আলোচনা চলছে। ইতিমধ্যে আমাদের মাঠ ব্যবস্থাপনা কমিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আসলে আমাদের ক্রিকেট অবকাঠামো বা ক্রিকেটের সুযোগ-সুবিধা যে জায়গায় থাকার কথা, সে জায়গায় নেই। এটা যেকোনো কারণেই হোক, আমরা করতে পারিনি। আমরা অন্য অনেক বিভাগে অনেক ভালো কাজ করেছি, কিন্তু আমরা আসলে এই জায়গাগুলো তৈরি করতে পারিনি।'

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ নিয়ে আলোচনার মধ্যে নতুন সংকটে পড়েছে বিসিবি। ঘরোয়া ক্রিকেটে যুক্ত হয়েছে আরও একটি দীর্ঘ সংস্করণের প্রতিযোগিতা। আজ শুরু হয়েছে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) দ্বিতীয় একাদশের তিন দিনের টুর্নামেন্ট। প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় আট বিভাগীয় দল অংশ নিচ্ছে। প্রতিটি দল খেলবে সাতটি করে ম্যাচ। লিগ পর্ব চলবে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত, এরপর পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল ১১ থেকে ১৩ নভেম্বর ফাইনালে মুখোমুখি হবে। 

তরুণ ক্রিকেটার ও জাতীয় দলের বিকল্প খেলোয়াড়দের দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে ম্যাচ খেলার সুযোগ বাড়ানোই এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য। প্রথম রাউন্ডে আজ রংপুর-সিলেট, ময়মনসিংহ-রাজশাহী, খুলনা-ঢাকা এবং বরিশাল-চট্টগ্রাম মুখোমুখি হচ্ছে। ম্যাচগুলো হচ্ছে বিকেএসপির তিনটি মাঠ এবং পূর্বাচলের জাতীয় ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। পরবর্তী রাউন্ডগুলোতে বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্স, ক্রিকেটার্স ক্রিকেট একাডেমি ও জামালপুর জেলা স্টেডিয়ামও ব্যবহার করা হবে। দুটি দীর্ঘ সংস্করণের প্রতিযোগিতা একই সময়ে চালু হওয়ায় মাঠের ওপর চাপও বেড়েছে। 

বাস্তবতা তুলে ধরেন আলমগীর, 'আসলে আমরা একটা নতুন দিনের শুরু করেছি, আমরা একটা নতুন কাঠামো শুরু করেছি। আমাদের বর্তমান বোর্ড আসলে ঘরোয়া ক্রিকেটটাকে পুনর্গঠন করার জন্য সবাই মিলে কাজ করছে। তো শুরুতে আসলে আমাদের কিছু সমস্যা আছে। আমাদের আসলে দুইটা দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেট একসঙ্গে চালু করা বাংলাদেশ ক্রিকেটে আগে কখনো হয়নি। যে কারণে এটা চালু করতে গিয়ে আমাদের কিছু সমস্যা হচ্ছে, আমাদের মাঠ নিয়ে কিছু সমস্যা হচ্ছে। কারণ আমাদের এই দীর্ঘ সংস্করণের ম্যাচগুলো কিন্তু আমরা যেকোনো মাঠে করতে পারি না। পাশাপাশি হচ্ছে আমাদের আবাসনের একটা সমস্যা আছে। তো সবগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি।'

এনসিএলের মূল আসরও গত ৩ অক্টোবর শুরু হয়েছে। ফলে প্রথম একাদশের চার দিনের ম্যাচের পাশাপাশি দ্বিতীয় একাদশের তিন দিনের ম্যাচ চালু হওয়ায় ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য প্রয়োজন হচ্ছে আরও বেশি মানসম্পন্ন মাঠের। বিসিবির পরিকল্পনায় দ্বিতীয় একাদশের এই আসর মূলত খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে রাখার একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম। মাঠ ও আবাসন সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান, 'আমরা কিছু সমস্যা চিহ্নিত করেছি, সেসব নিয়ে কাজ করছি। আমাদের বোর্ড সভাপতিও (তামিম ইকবাল) গতকাল কথা বলেছেন। আমরা আশা করছি, যে সমস্যা যখনই হবে, আমরা সেটা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেব এবং এগুলো সমাধানের চেষ্টা করব।

 
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত