ঋতু বদল হলেই হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া শুরু হয়ে যায় অনেকের। গরমে জ¦র-সর্দি হলে আরও অস্বস্তি বাড়ে। কিন্তু এমন অবস্থায় কি আইসক্রিম বা ঠান্ডা পানীয় খেতে পারবেন, অনেকেই বুঝতে পারেন না।
অনেক মানুষের ভুল ধারণা, জ্বর-সর্দি হলে আর ঠান্ডা খাবার খাওয়া চলে না। এতে শ্লেষ্মা জমতে থাকে এবং ভাইরাসের প্রকোপ কমে না। কিন্তু গবেষণায় প্রমাণিত আইসক্রিম বা কোল্ড ড্রিংকস খাওয়ার সঙ্গে ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধির কোনো সম্পর্ক নেই। ঠান্ডা খাবারের প্রতি প্রত্যেক মানুষের শরীরে আলাদা প্রক্রিয়া হতে পারে। অনেকেরই ঠান্ডা পানীয় বা আইসক্রিম খাওয়ার পরে গলায় অস্বস্তি দেখা দেয়। গলা খুশখুশ ও কাশির মতো সমস্যা আরও বাড়ে। এ ক্ষেত্রে ঠান্ডা পানীয় বা ডেজার্ট এড়িয়ে চলাই ভালো। যদি সমস্যা না হয়, তা হলে নিশ্চিন্তে খেতে পারেন। অনেকের ধারণা, দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খেলে শরীরে কফ বা মিউকাস বেশি তৈরি হয়। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আইসক্রিম বা ঠান্ডা জাতীয় পানীয় শরীরে শীতল প্রভাব ফেলতে পারে না। বরং, অন্য প্রক্রিয়া ঘটে।
আইসক্রিম ফ্যাটযুক্ত দুধ এবং চিনি দিয়ে তৈরি হয়। পরিপাকের সঙ্গে ফ্যাট ভাঙতে শুরু করলে শরীরে তাপ উৎপন্ন হয়। একে ‘ডায়েট-ইনডিউস্ড থারমোজেনেসিস’ বলে। সুতরাং আইসক্রিম খেলে শরীরে সাময়িকভাবে ঠান্ডার অনুভূতি পাওয়া যায়। হজম প্রক্রিয়া শুরু হলেই এই ঠান্ডা ভাব চলে যায়। অন্যদিকে কোল্ড ড্রিংকস বা ঠান্ডা পানি খেলে শুধু গলা পর্যন্তই তার অনুভূতি পাওয়া যায়। আর কোনো প্রভাব ফেলে না। তবে ঠান্ডা পানীয়তে থাকা শর্করা ক্যালোরি বাড়ায় এবং অন্য সমস্যা ডেকে আনে। এর সঙ্গে শরীরে কফ জমার কোনো যোগ নেই।
সুতরাং ঠান্ডা লাগলে যে আইসক্রিম বা কোল্ড ড্রিংকস খাওয়া বন্ধ করে দেবেন, এমনটা নয়। যদি শারীরিক অস্বস্তি হয়, তাহলে না খাওয়াই ভালো। ডেজার্ট বা পানীয় খেলে ক্যালোরিও বাড়ে। সে ক্ষেত্রে এ ধরনের খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। এ ছাড়া গলার অস্বস্তি কমাতে ঈষদুষ্ণ পানীয়, স্যুপ এবং প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে পারেন। আর কফ পরিষ্কার করতে ভেপার নিলে দারুণ উপকার পাবেন।