নানা কর্মসূচিতে আবরার ফাহাদকে স্মরণ

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৪ এএম

স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানের প্রতীক হয়ে ওঠা শহীদ আবরার ফাহাদকে তার সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকীতে নানা কর্মসূচিতে স্মরণ করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠন। গতকাল বুধবার দিনভর আলোচনা সভা, চিত্রপ্রদর্শনী, স্মরণসভা ও স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আবরারের আত্মদানের তাৎপর্য তুলে ধরেন বক্তারা। একই সঙ্গে দেশের স্বার্থ, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন থাকার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে নিপীড়ন ও সহিংসতার সংস্কৃতি বন্ধের আহ্বান জানান তারা।

আবরারের আত্মদান প্রতিরোধের শক্তি জুগিয়েছে  ছাত্রদল : শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অডিটরিয়ামে আলোচনা সভার আয়োজন করে।

এতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, আবরার ফাহাদের আত্মদান গোটা জাতিকে আরও বেশি সংগঠিত করেছে এবং আগ্রাসী ও সম্প্রসারণবাদী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের শক্তি জুগিয়েছে।

রিজভী বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্রের লড়াই করছি, সবকিছু করছি। কিন্তু দেশের প্রশ্নে, জাতির প্রশ্নে আমরা কখনোই আত্মসমর্পণ করব না। আমরা আমাদের যে অস্তিত্ব, আমাদের যে ভূমিÑ এটিকে রক্ষা করার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করব।’

আবরার জাতীয় মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক  এনসিপি : এদিকে রাজধানীর পলাশী চত্বরে আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভের পাদদেশে আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, আবরার ফাহাদ জাতীয় মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তার লেখালেখির অন্যতম বিষয় ছিল বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং ভারতের সঙ্গে অসম সম্পর্কের বিরোধিতা। তাই তার হত্যাকা-কে শুধু একটি হত্যাকা- হিসেবে দেখলে হবে না; এর সঙ্গে গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নও জড়িত।

স্মরণসভায় কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে যে সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থা রয়েছে, তা শেখ হাসিনার আমলের কাঠামোর ধারাবাহিকতা বহন করছে। তার ভাষায়, ‘এখন যে নির্বাচন হয়েছে, সেটা শেখ হাসিনার সংবিধানের অধীনে নির্বাচন। এখন যে পার্লামেন্ট, এটা কিন্তু শেখ হাসিনারই পার্লামেন্ট। তিনি নাই, কিন্তু সবই আছে।’

আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডের তাৎপর্য নিয়েও বক্তব্য দেন ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, আবরারের বিষয়টি শুধু মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতাও আলোচনায় আনা প্রয়োজন।

সমালোচনা মানেই শত্রুতা নয় ছাত্রশিবির : শহীদ আবরার ফাহাদের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবির মধুর ক্যান্টিনে ‘ক্ষতচিহ্নের ক্যানভাস : নির্যাতনের ক্যাম্পাস’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করে। আলোচনা সভায় ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদসহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, আবরার ফাহাদের কথাগুলো ছিল অনেকেরই কথা। তার প্রতিবাদের স্ফুলিঙ্গ পরবর্তী সময়ে বড় আন্দোলনে রূপ নেয়। সমালোচনা মানেই শত্রুতা নয়Ñএটি বর্তমান ক্ষমতাসীনদেরও বুঝতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডাকসু : ‘গণরুম-গেস্টরুম যেন আর ফিরে না আসে’ : আবরার ফাহাদের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) গণরুম-গেস্টরুমবিরোধী স্মৃতিস্তম্ভ ‘আর্তনাদ’ উদ্বোধন করে। অনুষ্ঠানে আবরারের পিতা মো. বরকতউল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গণরুমের ফিরে আসা রোধে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সচেতন থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘আর্তনাদ’ স্মারকটি গণরুমের ভয়াবহতা বোঝানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে আর কখনো গণরুম-গেস্টরুম ফিরে না আসে এবং কেউ যাতে হত্যা-নিপীড়নের শিকার না হয়, সে জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সচেতন থাকতে হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত