ময়মনসিংহে মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা ১৩ মাস বয়সী এক শিশুকে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুটির দাদা-দাদি ও আত্মীয়সহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঈশ^রগঞ্জ থানা পুলিশ। ঢাকার দোহার উপজেলার চর মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচ-ী এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার দুপুরে গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। পুলিশের দেওয়া তথ্য ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির নাম মো. মোজাহিদ। তার মা মোছা. রোজিনা বেগমের সঙ্গে প্রায় দুই বছর আগে বিয়ে হয় মো. নাঈমের। বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন রোজিনা।
এজাহারে রোজিনা অভিযোগ করেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে স্বামী ও তার স্বজনরা তাকে মারধর করে এবং শিশুটিকে রেখে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এরপর স্বামী তার কোনো খোঁজখবর না নেওয়ায় এবং ভরণপোষণ না দেওয়ায় তিনি গার্মেন্টসে চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন।
এর মধ্যে গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজহাটি (সুতি ভরট) এলাকার বাড়িতে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন লোক আসেন। তাদের কাছে তার ১৩ মাস বয়সী ছেলে মোজাহিদকে দুই লাখ
টাকার বিনিময়ে পাচারের উদ্দেশ্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ পান রোজিনা। এজাহারে আরও বলা হয়, খবর পেয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে রোজিনা বিবাদীদের বাড়িতে গিয়ে ছেলেকে বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চান। এ সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে উপস্থিত লোকজনের সামনে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে শিশুটির অবস্থান শনাক্তে অভিযান শুরু করে পুলিশ। মামলা দ্রুত তদন্তের একপর্যায়ে ঢাকার দোহার থানার চর মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচ-ী এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। একই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাকৃতরা হলেন মো. উজ্জ্বল মিয়া, তার স্ত্রী মোসা. আয়শা খাতুন, মোসা. শরিফা খাতুন, মো. আবেদ মোল্লা ও তার স্ত্রী মোসা. শিখা। তাদের মধ্যে উজ্জ্বল মিয়া, আয়শা খাতুন ও শরিফা খাতুন এজাহারনামীয় আসামি। আবেদ মোল্লা ও তার স্ত্রী শিখাকে তদন্তে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া শিশুটির বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ সাজ্জাদ রোমন বলেন, ‘মামলা রুজুর দ্রুত সময়ের মধ্যে পাচারকৃত শিশু মোজাহিদকে ঢাকার দোহার এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।